বঙ্গ রাজনীতিতে ‘সিঁদুর’ বিতর্ক! মোদির ব্যক্তিগত জীবন টেনে আক্রমণ মমতার, গর্জে উঠল গেরুয়া শিবির

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যে নিজের প্রথম জনসভায় এসেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। আলিপুরদুয়ারের জনসভায় মোদির বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে এই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আলোচনা বিরোধীদের, বিশেষত তৃণমূল কংগ্রেসের সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তৃণমূল অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী ‘সিঁদুর’ নিয়ে আত্মপ্রচার চালাচ্ছেন। এর পরই আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
গতকাল আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর সভা থেকে ‘অপারেশন বেঙ্গল’-এর ডাক দেওয়া হয়, যা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে পাল্টা গর্জে উঠেছে গেরুয়া শিবির।
সাংবাদিক বৈঠক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রত্যেক মহিলার সম্মান আছে। স্বামীর থেকে সিঁদুর গ্রহণ করেন তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী এমন ভাবে কথা বলছেন… আপনি সকলের স্বামী নন! সবার আগে নিজের স্ত্রীকে কেন সিঁদুর দিচ্ছেন না?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সব রাজনৈতিক দল, বিজেপি বিরোধী শিবিরের প্রতিনিধিরা যখন বিদেশে দেশের হয়ে গলা ফাটাচ্ছেন, সেই সময় নির্বাচনের রাজনীতি করছেন মোদি।”
এদিকে, গতকালের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী যশোদাবেন মোদির একটি পুরনো ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দুজনকে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর স্ত্রী যশোদাবেনের দীর্ঘদিন কোনো যোগাযোগ নেই। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে দেওয়া হলফনামায় মোদি নিজেকে বিবাহিত বলে জানিয়েছিলেন। জানা যায়, খাতাকলমে যশোদাবেন ‘মোদির স্ত্রী’ হলেও বাস্তবে তাঁর সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আর কোনো যোগাযোগ নেই। বেশ কিছু বছর আগে সংবাদমাধ্যমের সামনে যশোদাবেন প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘তাঁকে আমি শ্রদ্ধা করি। আমার কাছে তিনি রাম।’
এই ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রচারকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, উন্নয়নের বদলে ব্যক্তিগত আক্রমণ নির্বাচনী বিতর্কের মানকে নিচে নামাচ্ছে। তবে এই বিতর্ক ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।