‘আমার সময় শেষ হল’ ট্রাম্প প্রশাসনে ইতি টানলেন ইলন মাস্ক, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মনোমালিন্য?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী এবং টেসলা ও স্পেসএক্স-এর কর্ণধার ইলন মাস্ক। সরে আসার খবর জানিয়ে ইলন মাস্ক জানান, তাঁর ‘নির্ধারিত সময়সীমা’ শেষ হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক বুধবার রয়টার্সকে জানান, ইলন মাস্ক প্রশাসন ছাড়ছেন এবং এই প্রক্রিয়া আজ রাত থেকেই শুরু হবে।

দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর ট্রাম্প মাস্ককে তাঁর অন্যতম পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন। মাস্কের জন্য তৈরি হয়েছিল একটি বিশেষ দফতর—সরকারি দক্ষতা বিষয়ক দফতর (ডিওজিই)। মার্কিন প্রশাসনের ‘অপ্রয়োজনীয় ব্যয়’ কমিয়ে বা বন্ধ করে আর্থিক সাশ্রয় করাই ছিল এই দফতরের মূল কাজ। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় ও কর্মী সংখ্যা কমানো ছিল এই বিভাগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই নিয়োগ নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।

বিশেষ সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ইলন মাস্কের সরকারি দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ৩০ মে। ১৩০ দিনের ম্যান্ডেট নিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ফেডারেল সরকারকে পুনর্গঠন এবং ব্যয়-কর্মী কমানোর ডিওজিই-এর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ইলন মাস্ক জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিওজিই-এর কার্যক্রম আরও জোরদার হবে এবং সরকারের মাধ্যমে এটি জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ আস্থাভাজন বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তবে মাস্কের এই আকস্মিক ঘোষণার নেপথ্যে কী কারণ, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। কারও কারও দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রশাসনিক নানা বিষয়ে মতান্তরের জেরেই মাস্কের এই সিদ্ধান্ত।

এই প্রশ্নের কারণও রয়েছে। জনকল্যাণমূলক কাজে সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে ট্রাম্প একটি বিলে সই করেছিলেন। মাস্কের দাবি ছিল, এর ফলে রাজকোষ ঘাটতি আরও বাড়বে এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন দফতরের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হবে। বিল নিয়ে এই মতান্তরের জেরেই মাস্ক ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বেরিয়ে গেলেন কি না, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে প্রশ্ন উঠছে। গতকাল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে পোস্ট করেছেন ইলন মাস্ক। তিনি লিখেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সরকারি দক্ষতা বিভাগের’ অংশ হিসেবে তাঁর বিশেষ সরকারি কর্মকর্তার দায়িত্ব শেষ হয়েছে।