“বাংলায় এসে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে রাজনীতি করবেন না”-প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বার্তা কুণালের

‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্যের পর এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক এক বছর আগে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গে সফরে এসেছেন। আজ তাঁর আলিপুরদুয়ারে একটি জনসভা রয়েছে। এই কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী ‘এক্স’ হ্যান্ডলে পোস্ট করে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের ‘দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর আক্রমণ ও তৃণমূলের পাল্টা জবাব
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘এক্স’ পোস্টে মন্তব্য করেছেন যে, রাজ্যের বর্তমান তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা নিয়ে মানুষ বিরক্ত। এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূল তাদের অফিশিয়াল ‘এক্স’ হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রীর পোস্টকে ট্যাগ করে লিখেছে, “পরিযায়ী পাখিরা বাংলায় তাদের মরশুমি ভ্রমণ শুরু করেছে। একটা সহজ প্রশ্ন তাদের করতেই হয়, কেন্দ্রীয় সরকার কেন রাজ্যের ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ন্যায্য বকেয়া আটকে রেখেছে?” এরপর হ্যাশট্যাগ দিয়ে তৃণমূল আরও লিখেছে, “আয়ে হো তো বাতাকে যাও।” লেখার সঙ্গে একটি গেরুয়া উত্তরীয় পরা পরিযায়ী পাখির ছবিও পোস্ট করা হয়েছে, যার গলায় উত্তরীয়তে বিজেপির প্রতীক পদ্মফুল আঁকা।

শাসকদলের অন্যতম মুখপাত্র তথা রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এক সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সফর নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত বিচক্ষণের মতো আমাদের মুখ্যমন্ত্রী তথা দলনেত্রী কেন্দ্রের প্রতি সৌজন্য দেখিয়েছেন। বারবার তিনি বলছেন, যে কোনও সিদ্ধান্তে কেন্দ্রের পাশে রয়েছেন। এই সৌজন্যের পালটা তাঁর সরকারকেই আক্রমণ করছে কেন্দ্র!”

কুণাল মণিপুর পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, “২ বছর ধরে মণিপুর জ্বলছে, অরাজক পরিস্থিতি। ওখানে একবারও তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) যাওয়ার সময় হল না, অথচ ছাব্বিশের ভোটের আগে বাংলায় আসছেন! সে গণতান্ত্রিক দেশে যাঁর যেখানে ইচ্ছা যেতেই পারেন। কিন্তু তার জন্য তৃণমূল সরকারকে কেন আক্রমণ? এখানে এই সরকার যেভাবে উন্নয়নের কাজ করছে, তা গোটা দেশে বিরল।”

তিনি আরও কড়া ভাষায় প্রধানমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিকভাবে তৃণমূল তথা রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করা হলে প্রধানমন্ত্রীকে পাল্টা জবাব পেতে হবে। কুণাল বলেন, “এই সময়ে এমন রাজনৈতিক পোস্ট না করলেই পারতেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গোটা দেশ একসঙ্গে। সেখানে দাঁড়িয়ে এখন রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করেছেন মোদীজি।”

কুণাল ঘোষ প্রধানমন্ত্রীকে ‘রাজনৈতিক পর্যটক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, “ডুয়ার্সে অনেক পর্যটক আসে, কিন্তু আপনি এসেছেন রাজনৈতিক পর্যটক হয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক সৌজন্য দেখাচ্ছেন। অথচ আপনি মিথ্যা প্রচার করে বাংলার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।” তিনি আরও বলেন, ‘সিঁদুরকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না’ এবং ‘বাংলার বকেয়া মেটাতে হবে’।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই সফর এবং তার আগে-পরে রাজনৈতিক দলগুলির বাকযুদ্ধ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আবহাওয়াকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।