মোদীর আলিপুরদুয়ার সফরের প্রাক্কালেই রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ! বঞ্চনার অভিযোগে সরব TMC

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আলিপুরদুয়ার সফরের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক লড়াই এখন তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে ফের আক্রমণ করেছে বিজেপি। পাল্টা কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দুই শিবিরের এই রাজনৈতিক লড়াই ময়দান থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত সরগরম করে রেখেছে।
প্রধানমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের আলিপুরদুয়ার সফরের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ‘পরিযায়ী পাখি’র সঙ্গে তুলনা করে #AayeHoTohBataKeJao হ্যাশট্যাগে প্রচার শুরু করেছে। তৃণমূলের দাবি, বাংলার বকেয়া ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা ফেরত দিতে হবে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে প্রথম নির্বাচনী প্রচার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সময়ে রাজ্যের দীর্ঘদিনের দাবি ‘বাংলার টাকা কোথায়?’ এই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল কংগ্রেস আক্রমণ শানিয়েছে।
এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তৃণমূল কংগ্রেস লিখেছে, “যখন পরিযায়ী পাখিরা বাংলায় তাদের মৌসুমী সফরে আসছে, তখন একটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিন: কেন্দ্র এখনও বাংলার ন্যায্য ১.৭ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন?” কৌশলগতভাবে তৈরি করা হ্যাশট্যাগ #AayeHoTohBataKeJao এই রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রাথমিক বার্তা হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার নিয়ে জোর চর্চা চলছে। কারণ প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ জন বার্লা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন এবং বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে ওই অঞ্চলে উন্নয়ন রুখে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকার আলিপুরদুয়ারে গৃহীত উন্নয়নমূলক উদ্যোগগুলির বিবরণও একটি ভিডিও বার্তায় শেয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। “শ্রীমতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গতিশীল নেতৃত্বে আলিপুরদুয়ারে উন্নয়নের এক নতুন যুগের সাক্ষী থাকছে। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে দিদি এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছেন,” এক্স-এ পোস্ট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফরের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে।
চা বলয়ের এই জেলায় রাজ্য রাজনীতি এখন সরগরম। লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি জয়লাভ করলেও, বিধানসভা উপনির্বাচনে মাদারিহাটে তৃণমূল কংগ্রেস জয় পেয়েছে। ভোটের দামামা বেজে যাওয়ায় এই জেলাকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন চোখে পড়ার মতো।