বারাসত মেডিক্যাল কলেজে চাকরির নামে প্রতারণা, পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ প্রতারিত

বারাসত মেডিক্যাল কলেজে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ওই মেডিক্যাল কলেজেরই এক নিরাপত্তা কর্মী সুপারভাইজারের। প্রতারিত যুবক অভিজিৎ দাস বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়ার দ্বারস্থ হয়েছেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম সৌমেন মণ্ডল, যিনি বর্তমানে বারাসত মেডিক্যাল কলেজের সিকিউরিটি গার্ডের সুপারভাইজার পদে কর্মরত। প্রতারিত যুবক অভিজিৎ দাস বারাসতের বামুনমুড়ো এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ডেলিভারি বয়।
অভিজিৎ দাসের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় মাস ছয়েক আগে তাঁর সঙ্গে সৌমেন মণ্ডলের পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই সৌমেন অভিজিৎকে টাকার বিনিময়ে ওই হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। প্রাথমিকভাবে তিনি প্রায় দেড় লক্ষ টাকা দাবি করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় রফা হয়। অভিজিৎ দাবি করেছেন যে, তিনি সৌমেনকে সেই টাকা দিয়েও দিয়েছেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও অভিজিতের চাকরি জোটেনি। এরপর তিনি টাকা ফেরতের দাবি জানালে সৌমেন বিভিন্নভাবে তা এড়িয়ে চলতে শুরু করেন। তখনই অভিজিৎ বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারিত হয়েছেন। কালবিলম্ব না করে তিনি মঙ্গলবার রাতে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিজিৎ দাস তাঁর অভিযোগে বলেছেন, “দিন-রাত কষ্ট করে উপার্জনের টাকা থেকেই ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা তুলে দিয়েছিলাম সৌমেনের হাতে। টাকার বিনিময়ে এজেন্সি মারফত হাসপাতালে নিরাপত্তারক্ষীর চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। চাকরি দেওয়া তো দূরের কথা, টাকাও ফেরত দিচ্ছে না সে। বারবার বলেও কোনো কাজ হয়নি। শুধু দেখছি, দেখব বলে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে যাচ্ছে আমাকে। এখন বুঝতে পারছি প্রতারিত হয়েছি। সেই কারণে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আমি চাই, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
যদিও, বারাসত মেডিক্যাল কলেজের সিকিউরিটি গার্ডের সুপারভাইজার সৌমেন মণ্ডল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পাল্টা তিনি দাবি করেছেন, “তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে। তিনি কারও কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেননি।”
তবে, এই বিষয়টি নিয়ে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত মুখে কুলুপ এঁটেছে। বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খাড়িয়া এই ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশের তদন্তে এই প্রতারণা চক্রের আরও তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।