পাকিস্তানের বিমানঘাঁটির আন্ডারগ্রাউন্ডেও হামলা চালিয়েছিল ভারত? স্যাটেলাইট চিত্র ঘিরে শুরু গুঞ্জন

ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অধীনে পাকিস্তানের মুরিদ বিমান ঘাঁটিতে গত ১০ই মে চালানো হামলার নতুন উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশিত হয়েছে। ম্যাক্সার টেকনোলজিস কর্তৃক প্রকাশিত এই ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, ভারতের হামলায় পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিমান ঘাঁটির অভ্যন্তরে একটি সুরক্ষিত কমপ্লেক্সকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে এবং এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ভূ-গোয়েন্দা গবেষণা সংস্থা ইন্টেল ল্যাবের গবেষক ড্যামিয়েন সাইমনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, স্যাটেলাইট চিত্রগুলি মুরিদ বিমান ঘাঁটিতে একটি প্রায় ৩ মিটার চওড়া গর্ত দেখাচ্ছে, যা ঘাঁটির একটি ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত কমপ্লেক্সের প্রবেশদ্বার থেকে মাত্র ৩০ মিটার দূরে অবস্থিত। এই গভীর গর্তের উপস্থিতি দেখে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে যে, ভারত সম্ভবত পাকিস্তানের ভূগর্ভস্থ সামরিক অবকাঠামো নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করেছে। যদি এই ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত হয়, তাহলে এটি হবে পাকিস্তানের ভূগর্ভস্থ সামরিক পরিকাঠামোতে ভারতের প্রথম হামলা।
সাইমন তার এক্স (আগে টুইটার) পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর মনুষ্যবিহীন এরিয়াল ভেহিক্যাল (ইউএভি) রাখার জায়গার কাছাকাছি একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল ভবনের ছাদেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “ভারতীয় বিমানবাহিনীর হামলায় একটি কমান্ড ও কন্ট্রোল ভবনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। ছাদের একটি অংশও ভেঙে পড়েছে, সম্ভবত অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হয়েছে।”
মুরিদ বিমান ঘাঁটি পাকিস্তানের চাকওয়ালে অবস্থিত এবং জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে। এটি পাকিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান ঘাঁটি, যেখানে যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন, যেমন শাহপার ১, শাহপার ২, বুরাক, ফ্যালকো, বায়রাক্তার টিবি২এস, বায়রাক্তার আকিনসি, সিএইচ-৪ এবং উইং লুং ২-এর মতো উন্নত ড্রোন মোতায়েন রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ই মে ভারত পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের সন্ত্রাসী আস্তানা লক্ষ্য করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় ১০ই মে মুরিদ বিমান ঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। এই নতুন স্যাটেলাইট চিত্রগুলি দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মাত্রা এবং ভারতের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।