নবান্নে ডিএ পরিশোধের তোড়জোড়! কারা পাবেন ২৫ শতাংশ DA? তালিকা তৈরি করতে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মহার্ঘভাতা (ডিএ) পরিশোধের তোড়জোড় শুরু করেছে নবান্ন। গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, রাজ্য সরকারকে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই নির্দেশিকার পর থেকেই রাজ্যের অর্থ দফতর ডিএ প্রাপকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর, রাজ্যের অর্থ দফতর সমস্ত দফতরের কাছে ডিএ পাওয়ার অধিকারী কর্মচারীর সংখ্যা জানতে চেয়েছে। এই পদক্ষেপ থেকে স্পষ্ট যে, নবান্ন ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বর্তমানে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা আড়াই লক্ষের কিছু বেশি। এর পাশাপাশি প্রায় ৩ লক্ষ ৮০ হাজার স্কুলশিক্ষক রয়েছেন। এছাড়াও পঞ্চায়েত, পুরসভা, পুরনিগম এবং অন্যান্য সরকার পোষিত স্বশাসিত সংস্থায় কর্মরত প্রায় এক লক্ষ কর্মচারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় আট লক্ষ কর্মচারী এই বকেয়া ডিএ পাওয়ার অধিকারী বলে মনে করা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা ১০ লক্ষ ছাড়াতে পারে বলে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠন মনে করছে।

রাজ্য সরকারের সব দফতরকে পৃথকভাবে জানাতে বলা হয়েছে, কতজন কর্মচারী বর্তমানে ডিএ পাওয়ার যোগ্য এবং কতজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এই সুবিধার আওতায় পড়েন। এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০০৯ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের আমলে চালু হওয়া পঞ্চম বেতন কমিশনের রূপায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৯ সালে। ফলে ২০১৯ সালের পরে যাঁরা সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁরা এই ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ-র আওতায় পড়বেন না।

এই সুবিধা শুধুমাত্র তাঁদের জন্য প্রযোজ্য, যাঁরা ২০০৯ সাল থেকে বা তার আগে থেকে চাকরিতে ছিলেন বা এখনও কর্মরত আছেন। তবে, ২০০৯ সালের পরের ১০ বছরে যাঁরা চাকরিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁরাও তাঁদের চাকরির সময়কাল অনুযায়ী আংশিক ডিএ পাওয়ার যোগ্য হবেন।

অন্যদিকে, ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল থেকে যাঁরা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন এবং সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি হারিয়েছেন, তাঁরা এই ডিএ পাবেন না বলে নবান্ন সূত্রে জানা গেছে।

এই ডিএ পরিশোধের প্রক্রিয়া আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে স্বস্তি এনেছে।