বিশেষ: জোড়া তারায় দেখা গেল অদ্ভুত এক চৌম্বক শক্তি, জেনেনিন কি বলছে বিজ্ঞানীরা?

তারাদের চৌম্বকীয় কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে এক নতুন গবেষণা সামনে এসেছে। সাধারণত ধারণা করা হয়, একটি তারা যত দ্রুত ঘোরে, তার চৌম্বক শক্তি তত বেশি হয়। এই শক্তির কারণেই তারায় বড় বড় বিস্ফোরণ, সানস্পট ও শক্তির নির্গমনের মতো ঘটনা ঘটে। তবে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এই শক্তি বাড়ে, যাকে ‘স্যাচুরেশন’ বলা হয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ড. জি ইউ-এর নেতৃত্বে করা এক নতুন গবেষণা বলছে, এই নিয়ম সব সময় খাটে না, বিশেষ করে যখন দুটি তারা খুব কাছাকাছি ঘোরে, যাকে ‘ক্লোজ বাইনারি সিস্টেম’ বলে।
প্রত্যাশার চেয়ে বেশি চৌম্বকীয় কার্যকলাপ
চীনের ল্যামোস্ট টেলিস্কোপ এবং ইউরোপের মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গাইয়া থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে ড. ইউ এবং তার গবেষণা দলটি খুঁজে পেয়েছে যে, প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি চৌম্বকীয় কার্যকলাপ দেখায় এ ধরনের অনেক কাছাকাছি ঘোরা তারাযুগল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে এসব তারার চৌম্বক শক্তি ধীরে ধীরে কমার বদলে বরং বাড়তেই থাকে।
‘সুপারস্যাচুরেশন’ রহস্য
আরও রোমাঞ্চকর বিষয় হলো, এই তারাগুলো এতটাই দ্রুত ঘোরে যে, অর্ধেক দিনেরও কম সময়ে একবার ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। এমন বিরল ক্ষেত্রে এদের চৌম্বকীয় কার্যকলাপ আসলে কমতে শুরু করে, যা এক রহস্যময় ঘটনা এবং এটি ‘সুপারস্যাচুরেশন’ নামে পরিচিত। এই কমে যাওয়া বিষয়টি বিজ্ঞানীদের পুরোনো ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যারা অনুমান করতেন ঘূর্ণনের কারণে চৌম্বক শক্তি বাড়তেই থাকবে।
মহাকর্ষীয় টানের প্রভাব
গবেষকরা বলছেন, এই অদ্ভুত আচরণের মূল কারণ দুটি তারার মধ্যে থাকা মহাকর্ষীয় টান বা জোয়ার-ভাটার মতো শক্তি। এই শক্তি তারা দুটির ঘূর্ণন ও চৌম্বক ক্ষেত্রকে এমনভাবে প্রভাবিত করে, যা একক কোনো তারার মধ্যে দেখা মেলে না। মূলত অন্য তারার এত কাছাকাছি থাকা এদের চৌম্বকীয় শক্তিকে স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে বাড়িয়ে দিতে পারে।
মহাজাগতিক জীবন ও বাসযোগ্যতার উপর প্রভাব
গবেষকরা বলছেন, এই আবিষ্কার কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্যই নয়, বরং এর আরও বড় গুরুত্ব রয়েছে। চৌম্বকীয় কার্যকলাপ তারার আশপাশের মহাকাশ পরিবেশকে প্রভাবিত করে, যা কাছাকাছি থাকা যেকোনো গ্রহের সম্ভাব্য বাসযোগ্যতার ওপরও প্রভাব ফেলে। কোনো গ্রহ যদি এমন তারার আশপাশে ঘোরে যার খুব বেশি চৌম্বক শক্তি রয়েছে, তবে সেটি সেই গ্রহের বাতাসে শক্তিশালী রশ্মি ও কণার আঘাত হানতে পারে, যা সেখানে প্রাণের টিকে থাকাকে কঠিন করে তুলতে পারে।
এই গবেষণা বিভিন্ন তারা কীভাবে বদলে যায় এবং একে অন্যের সঙ্গে এদের সম্পর্ক এদের আচরণকে কীভাবে পরিবর্তন করতে পারে তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেন, মহাবিশ্বকে বোঝার ব্যাপারে যতই অনুমান করা হোক না কেন, মহাবিশ্ব এখনও অনেক বিস্ময় ধারণ করে রয়েছে নিজের মধ্যে।
এই গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল **’নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’**তে প্রকাশিত হয়েছে।