বাড়িতে মজুত বহু গ্যাস সিলিন্ডার! একের পর এক বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, গুরুতর আহত ১

উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেঠ কলোনি এলাকায় রবিবার রাত ৯টা নাগাদ একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের জেরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দা নিতাই মহন্তের বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

জানা গিয়েছে, নিতাই মহন্তের বাড়িতে বেশ কিছু গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখা ছিল। বিস্ফোরণের ফলে আগুন দ্রুত গতিতে পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করে।

অবিলম্বে কালিয়াগঞ্জ দমকল কেন্দ্র, পুলিশ প্রশাসন এবং বিদ্যুৎ দফতরে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। তবে আগুনের ব্যাপকতা দেখে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। পরবর্তীতে রায়গঞ্জ ও গঙ্গারামপুর থেকে আরও দুটি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আসে। নিরাপত্তার খাতিরে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।

কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী এবং কালিয়াগঞ্জ পুরসভার পুরপ্রধান রাম নিবাস সাহাও খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হন বাড়ির মালিক নিতাই মহন্ত। তাঁকে তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১২টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডের জেরে নিতাই মহন্তের বাড়ির সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, নিতাই গ্যাস লাইটারের ব্যবসার পাশাপাশি ছোট গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসাও করতেন।

নিতাইয়ের ভাইপো সুশান্ত দাস জানান, তাঁর পিসেমশাই গ্যাস লাইটারের ব্যবসার পাশাপাশি ছোট রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তির কাজ করতেন। সেই সিলিন্ডারগুলি সিঁড়ির নীচে রাখা ছিল। রবিবার সন্ধ্যায় নিতাই যখন চা বানাতে যান, তখনই হঠাৎ করে আগুনের সূত্রপাত হয়। রান্নাঘরের পাশে রাখা সিলিন্ডারে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে।

কালিয়াগঞ্জ পুরসভার চেয়ারম্যান রামনিবাস সাহা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে বেআইনিভাবে গ্যাস সিলিন্ডার মজুত রাখা অনুচিত। সাধারণ মানুষ ও দমকল কর্মীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে, দমকলের আধিকারিক শান্তনু মজুমদার জানান, ঘটনাস্থলে এসে তাঁরা প্রচুর পরিমাণে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডার এবং বেআইনি ছোট ছোট গ্যাস সিলিন্ডার মজুত দেখতে পান। বাড়ির মালিকের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে। ওই বাড়িতে কোনও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না। পাশের বাড়ির কিছু অংশও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, প্রায় ১০টি সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।