বর্ষার আগমন বার্তা! জানুন আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার হাল, রইল বড় আপডেট

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস সত্যি করে সোমবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে কখনও মুষলধারে, আবার কখনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিতে ভিজেছে শহর থেকে গ্রাম। তাহলে আজ দিনভর কেমন থাকবে আবহাওয়া? জেনে নিন বিস্তারিত পূর্বাভাস।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বর্ষা ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে প্রবেশ করেছে এবং অনুকূল পরিস্থিতি পাওয়ায় মৌসুমী বায়ু ক্রমশ অগ্রসর হচ্ছে। আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বর্ষা সিকিম এবং উত্তরবঙ্গের কিছু অংশেও প্রবেশ করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বর্ষা প্রবেশ করেছিল ১৩ মে এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই কেরালাতেও বর্ষা এসেছে। আবহাওয়াবিদদের অনুমান, বাংলাতেও এবার আগাম বর্ষা দেখা যেতে পারে।

পশ্চিম মধ্য ও উত্তর বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় আগামী ২৭ মে, মঙ্গলবার একটি নিম্নচাপ তৈরির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী দুই দিনের মধ্যে এই নিম্নচাপ আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এর অভিমুখ উত্তর বঙ্গোপসাগরের দিকে। এছাড়াও ওড়িশা, গুজরাট, রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত এবং জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ সহ উত্তর-পশ্চিম ভারতের পার্বত্য এলাকায় পশ্চিমী ঝঞ্ঝা প্রবেশ করছে। আরব সাগরের গভীর নিম্নচাপ স্থলভাগে ঢুকে মধ্য মহারাষ্ট্রে অবস্থান করছে, যা আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কর্ণাটকের দিকে অগ্রসর হবে এবং আরও শক্তি বাড়িয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবে। একটি অক্ষরেখা রাজস্থান থেকে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত, যা গুজরাটের উপর দিয়ে গেছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার দক্ষিণবঙ্গের সাতটি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।

মঙ্গলবার দক্ষিণবঙ্গের নয়টি জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উপকূলবর্তী জেলা কলকাতা, হাওড়া, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং নদিয়া জেলাতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা বাতাস বইবে।

বুধবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সকল জেলাতেই বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝড়ো বাতাস বইতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে ৭০ থেকে ১০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে এবং দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। তবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলাতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।

শুক্র ও শনিবারেও দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি থাকবে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়কালে প্রায় সকল জেলাতেই মেঘলা আকাশ এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। হুগলী, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলাতে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলাতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

সোমবার উত্তরবঙ্গের সকল জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি এবং ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাতাস বইবে। দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত সকল জেলাতেই ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও উত্তর দিনাজপুর জেলাতে সোমবার ঝড়ের গতিবেগ অপেক্ষাকৃত বেশি থাকতে পারে।

বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের সকল জেলাতেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং মালদহ জেলাতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর, যেখানে ৭০ থেকে ১১০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে, এই তিন জেলায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবারেও এই তিন জেলাতে প্রবল বৃষ্টি হতে পারে।

সুতরাং, রাজ্যবাসী প্রস্তুত থাকুন! বর্ষার আগমন বার্তা নিয়ে বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েকদিনেও এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।