শাহবাজ মগ্ন তুরস্কের ‘ভ্রাতৃত্বে’, ভারতের বিদেশমন্ত্রীর জয়শংকরের ফোন গেল কানাডায়, কাকে ফোন করলেন?

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের জেরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চার দেশের সফরে রওনা হয়েছেন, যার শুরুটা হয়েছে পাকিস্তানের ‘ভ্রাতৃপ্রতিম’ দেশ তুরস্ক থেকে। অন্যদিকে, শাহবাজ যখন তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করছেন, ঠিক তখনই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর কানাডায় ফোন করেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্কের শীতলতা কাটাতে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছেই প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়িপ এরদোগানের সঙ্গে দেখা করেছেন। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে শাহবাজ শরিফ লিখেছেন, “আজ সন্ধ্যায় ইস্তাম্বুলে আমার প্রিয় ভাই প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়িপ এরদোগানের সাথে দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক পাকিস্তান-ভারত সংঘর্ষে পাকিস্তানের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের জন্য তাকে ধন্যবাদ।” এর মাধ্যমে ভারত-পাক সংঘর্ষে তুরস্কের অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তুরস্কের ‘ডিরেক্টোরেট অফ কমিউনিকেশন’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “বৈঠকে প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন যে, তুরস্ক এবং পাকিস্তান তাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে এবং পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্য অর্জনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।” জানা গেছে, তুরস্ক সফরের পর শাহবাজ শরিফ ইরান, আজারবাইজান এবং তাজিকিস্তানে যাবেন।
অন্যদিকে, খলিস্তান ইস্যুতে দীর্ঘ সময় ধরে কানাডা ও ভারতের সম্পর্কে যে শীতলতা ছিল, তা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে ভারত। কানাডায় নিজ্জরের মৃত্যু ঘিরে সেদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো ভারতের দিকে আঙুল তোলায় সম্পর্কের চিড় ধরেছিল। সেই অধ্যায় শেষ হয়েছে। কানাডার তখতে এখন নতুন কার্নি সরকার। ট্রুডোর সময়কাল পিছনে ফেলে মার্ক কার্নি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারত ও কানাডার মধ্যে এই প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের কোনো আলোচনা হলো।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দকে ফোন করেন। উল্লেখ্য, কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা ভারতীয় বংশোদ্ভূত। জয়শঙ্কর নিজেই এদিন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই টেলিফোনিক কথোপকথন সম্পর্কে জানান। তিনি লেখেন, “কানাডার বিদেশমন্ত্রী অনিতা আনন্দের সাথে টেলিকন-এর প্রশংসা করি। ভারত-কানাডা সম্পর্কের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছি। তার সফল মেয়াদ কামনা করেছি।” এই আলোচনাকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর ভারত পাকিস্তানের বুকে পর পর ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে। পাল্টা পাকিস্তান হামলা করলে, তার জবাবে ভারতের তরফে সেদেশের একাধিক বায়ুঘাঁটি চুরমার করে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পরবর্তীতে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বিরতি বজায় থাকলেও, কূটনৈতিক অঙ্গনে ভারত ক্রমাগত নিজের অবস্থান বিশ্বের কাছে তুলে ধরছে। বিশ্বের নানান দেশে ভারত সর্বদলীয় সাংসদদের প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে সন্ত্রাস দমনে নিজের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরেছে। সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করও ইউরোপের ৩টি দেশে সফর করেছিলেন। এর পরই কানাডার বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হওয়াকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যা ভারতের সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টারই অংশ।