“বাংলাদেশিরা আমাদের ‘ভাই’”-মন্তব্য করে বিপাকে পড়লেন ভুবনেশ্বরের মেয়র

বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করে বিপাকে পড়েছেন ভুবনেশ্বরের মেয়র সুলোচনা দাস। তাঁর বিরুদ্ধে ‘বাংলাদেশি পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগ তুলে আঞ্চলিক সুরক্ষিত মঞ্চ নামের একটি স্থানীয় সংগঠন তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওড়িশার রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভুবনেশ্বরের মেয়র মন্তব্য করেছিলেন যে, যারা বাংলাদেশ থেকে এসেছেন এবং রেশন কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছেন এবং এখানে নাগরিক হিসেবে বসবাস করছেন, তাদের কোনওভাবেই বহিষ্কার করা যাবে না। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ওই ব্যক্তিদের ‘ভাই’ বলেও মন্তব্য করেছেন। বিজেডি নেত্রী সুলোচনা দাসের এই মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই ভুবনেশ্বরে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়েছে। রাজ্যের বিজেপি নেতা জয়নারায়ণ মিশ্র অভিযোগ করেছেন যে, ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্যই বিজেডি ওড়িশায় বাংলাদেশিদের আশ্রয় দিয়েছে।
আঞ্চলিক সুরক্ষিত মঞ্চের সভাপতি জগন্নাথ প্রধান দাবি করেছেন, ভুবনেশ্বরের মেয়রের এই মন্তব্য অবৈধ অভিবাসীদের সমর্থন করে। তিনি আরও দাবি করেন যে, মেয়রের এই অবস্থান শহরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে পারে। এই কারণেই জগন্নাথ প্রধান সুলোচনা দাসকে অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন।
ওড়িশা টিভির প্রতিবেদন অনুসারে, সুলোচনা দাস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে সমস্ত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর কোনো কাগজপত্র নেই, তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, যারা বাংলাদেশ থেকে এসে রেশন কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড পেয়ে সেখানে নাগরিক হিসেবে বসবাস করছেন, তাদের কোনোভাবেই বহিষ্কার করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই তাদের সঙ্গে আছি। তারা আমাদের ভাইয়ের মতন এখানে বসবাস করছেন। তাদের সঠিকভাবে বসবাস নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তারা যেখানেই থাকুক, এখানে থাকুক বা অন্য কোথাও থাকুক, তাদের যথাযথ যত্ন নেওয়া উচিত।” মেয়র আরও জানান, তাঁরা রাজ্য সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন না। তবে যাদের রেশন কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড আছে এবং যারা নাগরিক হিসেবে সেখানে বসবাস করছেন, তাঁদের কোনো অবিচারের সম্মুখীন হওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, তাঁদের যেমন সেখানে থাকছেন ওই বাংলাদেশিদেরও একইভাবে বসবাস করার অনুমতি দেওয়া উচিত।
তবে আঞ্চলিক সুরক্ষিত মঞ্চের সভাপতি জগন্নাথ প্রধান মেয়রের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, মেয়র বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘ভাই’ এবং ‘পরিবার’ বলে সম্বোধন করে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা এবং উৎসাহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের স্বার্থ বিরোধী কথা বলার মতো গুরুতর অপরাধের জন্যই সুলোচনা দাসকে গ্রেফতার করা উচিত।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুবনেশ্বরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মেয়রের মন্তব্যের আইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।