‘মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে মমতার বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য!

আজ, ২৬শে মে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৬তম জন্মবার্ষিকী। এই বিশেষ দিনে বিদ্রোহী কবিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্সে (পূর্বে ট্যুইটার নামে পরিচিত) দেওয়া পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী নজরুলের প্রতি রাজ্যের অকৃত্রিম সম্মান ও স্মৃতিরক্ষার নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীতে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য।” এরপর তিনি কবির স্মৃতি রক্ষায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা কবির স্মরণে তাঁর জন্মক্ষেত্রের কাছে আসানসোলে তাঁর নামে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় করেছি, ওই অঞ্চলেই অন্ডালে আমাদের গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দরের নাম রেখেছি কাজী নজরুল ইসলাম এয়ারপোর্ট। তাঁরই প্রতি শ্রদ্ধায় করেছি ‘নজরুল তীর্থ’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ কাজী নজরুল ইসলাম আকাদেমি’। প্রকাশ করেছি কবির উপর নানা গবেষণা-গ্রন্থ।” সবশেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “কবি আমাদের নিত্য-স্মরণীয়, সঙ্কটে কান্ডারি।”

১৩৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫শে মে, ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দ) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া। বাবা কাজী ফকির আহমেদ এবং মা জাহেদা খাতুন।

ছেলেবেলা থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চায় মগ্ন ছিলেন। একাধারে তিনি ছিলেন অনবদ্য গায়ক, সুরকার এবং একইসঙ্গে দ্রোহের কবি। তাঁর লেখনী তৎকালীন সমাজের অন্যায়, অবিচার, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর কবিতা, গান ও প্রবন্ধ ছিল এক বলিষ্ঠ হাতিয়ার। “বিদ্রোহী” কবিতার জন্য তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর গান ‘নজরুলগীতি’ নামে বাঙালির সংস্কৃতিতে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি শুধু বাংলাদেশের জাতীয় কবি নন, দুই বাংলাতেই তিনি সমানভাবে পরিচিত এবং বাঙালির আবেগ, মনন ও দ্রোহের প্রতীক হিসেবে আজও তাঁর নাম জড়িয়ে আছে। দুর্ভাগ্যবশত, অল্প বয়সেই তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হন এবং তাঁর কর্মজীবন অকাল থেমে যায়। ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। বাঙালির মননে চির অম্লান এই কবির স্মরণে তাঁকে ঘিরে আজও আবেগ ও শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে।