‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে পোস্ট করায় মহিলাকে ধর্ষণের হুমকি, ওড়িশা থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত যুবক

পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করার ঘটনায় ফলতার এক মহিলা সামাজিক মাধ্যমে গর্বপ্রকাশ করে পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টে অশ্লীল মন্তব্য ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ ওড়িশার কটক থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৯ মে, যখন ভারতীয় সেনার সফল ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে ফলতার ওই মহিলা ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। তাঁর পোস্টে লেখা ছিল, “ইতিহাসের পাতায় আরও একটা যুদ্ধের নাম যুক্ত হল সিঁদুর। ভাগ্য করে একটি দেশ পেয়েছি, যে দেশ কখনও হারতে শেখেনি। আমি গর্বিত আমি ভারতীয়।” এই দেশপ্রেমমূলক পোস্টের নিচেই ‘Raj F Lover’ নামে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই মহিলাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল মন্তব্য করা হয় এবং ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার পর আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই মহিলা এবং তিনি দ্রুত ডায়মন্ড হারবার পুলিশ সুপারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে-র নেতৃত্বে সাইবার ক্রাইম শাখা এবং ফলতা থানার পুলিশ অফিসারদের নিয়ে একটি বিশেষ দল (SOG) গঠন করা হয়।

পুলিশি তদন্তে উঠে আসে যে, যে অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকি ও অশ্লীল মন্তব্য করা হয়েছিল, সেটি একটি ফেক অ্যাকাউন্ট। এরপরই অভিযুক্তের খোঁজ শুরু করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। অবশেষে প্রযুক্তির সহায়তায় ওড়িশার কটক থেকে অভিযুক্ত যুবককে খুঁজে বের করে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এই বিষয়ে ডায়মন্ড হারবারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানান, “অভিযোগকারী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা সাইবার ক্রাইম এবং ফলতা থানার পুলিশ অফিসারদের নিয়ে একটি বিশেষ দল গঠন করে তদন্ত শুরু করি। আমাদের এসওজি টিম অভিযুক্ত যুবকের সন্ধান পায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। অভিযুক্তকে ওড়িশার কটকের কাছ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

ট্রানজিট রিমান্ডে অভিযুক্তকে ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের মোবাইল ফোনটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপে অভিযোগকারী মহিলা স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা আবারও সামাজিক মাধ্যমে মহিলাদের নিরাপত্তা এবং সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরল।