২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসকদলে বড়ো ভাঙ্গন! নলহাটির ২৫০ তৃণমূল যোগ দিলেন বিজেপিতে

২০২৬ সালের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) বড়সড় ভাঙন দেখা গেল বীরভূম জেলায়। নলহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বড়লা অঞ্চলের বুজুং গ্রামের ৭০টি পরিবারের প্রায় ২৫০ জন তৃণমূল কর্মী ও সমর্থক দল পরিবর্তন করে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনা নিঃসন্দেহে রাজ্যের শাসকদলের জন্য একটি ধাক্কা এবং বিজেপির জন্য অক্সিজেন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রবিবার (যদি আজকের দিন রবিবার হয়ে থাকে, তবে দিনটি রবিবার লিখবেন) এই দলবদল কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব দলত্যাগীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। নবযোগদানকারী তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা শাসকদলের অবহেলা এবং বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাঁদের এলাকার উন্নয়নে তৃণমূল নেতৃত্ব সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি, এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকেও তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ।

যোগদানকারী এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আমাদের গ্রামের উন্নয়নে কোনো নজর দেওয়া হয়নি। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি, আশা করি এবার আমাদের সমস্যার সমাধান হবে।” আরেকজন বলেন, “আমরা তৃণমূলকে অনেক সুযোগ দিয়েছি, কিন্তু তারা আমাদের জন্য কিছুই করেনি। এখন বিজেপির উপর ভরসা রাখছি।”

বিজেপি নেতৃত্ব এই যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, তৃণমূলের জনবিচ্ছিন্নতা এবং দুর্নীতির কারণেই সাধারণ মানুষ শাসকদল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বীরভূম জেলা বিজেপির এক নেতা বলেন, “এটি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। সামনে আরও বহু তৃণমূল কর্মী-সমর্থক বিজেপিতে যোগ দেবেন। মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং তারা বিজেপির উপর আস্থা রাখছে।”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের দাবি, সামান্য কিছু অসন্তুষ্ট কর্মী দল ছেড়েছেন এবং এর ফলে দলের সংগঠনে কোনো প্রভাব পড়বে না। বীরভূম জেলা তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেছেন, “যারা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে পারেনি, তারাই দলবদল করছে। এতে তৃণমূলের কোনো ক্ষতি হবে না। বিধানসভা নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।”

তবে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের গণদলবদল নিঃসন্দেহে তৃণমূলের জন্য চিন্তার কারণ। বিশেষ করে বীরভূমের মতো জেলায়, যেখানে তৃণমূলের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল বলে মনে করা হতো, সেখানে এই ভাঙন বিজেপির শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এই ঘটনা আগামী দিনে আরও দলবদলের ইঙ্গিত দেয় কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।