গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভোটারদের তথ্য হাতাচ্ছে সেলসম্যান, দাবি তৃণমূলের!

আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কিছু অনামী এজেন্সি ‘সেলসম্যান’-এর ছদ্মবেশে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং নানা কৌশলে ভোটারদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংসদ ও বিধায়কদের জন্য একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে বুথ স্তর পর্যন্ত বাড়তি নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।

দিন দুয়েক আগে তৃণমূলের তরফে সাংসদ ও বিধায়কদের জন্য জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, ভোটারদের মনোভাব বুঝতে বাংলায় ঘুরে বেড়াচ্ছে কিছু ‘অনামী এজেন্সি’। এরা নানা ভাবে ফাঁদে ফেলে ভোটারদের কাছ থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই কারণেই তড়িঘড়ি দলীয় নেতা, বিধায়ক এবং সাংসদদের সতর্ক করতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ, এই ‘সেলসম্যান’রা শুধু যে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ভোটার তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে এমনটা নয়। বুথ স্তরের যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলি রয়েছে, সেগুলিতেও তারা ঢুকে পড়েছে এবং সেখান থেকেও সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শুষে নিচ্ছে।

কিন্তু অচেনা-অজানা ব্যক্তিদের কাছে ভোটাররা কেন নিজেদের তথ্য তুলে দেবেন? ঘাসফুল শিবির মনে করছে, ভোটার তথ্য হাতানোর জন্য মূলত গ্রামের মহিলাদের টার্গেট করছে এই ‘সেলসম্যান’রা। তাদের জালে ফেলতে এবং সহজে কুচক্রে পা দিতে উৎসাহিত করার জন্য তারা হলুদগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়োর মতো বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিনামূল্যে বিতরণ করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলারা, সহজেই তাদের ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছেন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে একটি জনসভাতে এই ‘ভোটার তথ্য লুট-চক্রের’ কথা সর্বপ্রথম ফাঁস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরই দলের তরফ থেকে বিধায়ক-সাংসদদের জন্য এই জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়। দলের পক্ষ থেকে বুথ স্তরে প্রতিটি কার্যকলাপে বাড়তি নজরদারি চালাতে এবং সাধারণ মানুষকে এই ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সতর্ক করতে বলা হয়েছে।