হুগলির গঙ্গায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল চারজন, তিনজন উদ্ধার, নিখোঁজ ১

রবিবার হুগলির শ্রীরামপুর ও শেওড়াফুলি ঘাটে গঙ্গায় স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল চারজন। এদের মধ্যে তিনজনের দেহ উদ্ধার করেছে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ, তবে এখনও একজনের খোঁজ চলছে। ঘটনা ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।

শ্রীরামপুরে মর্মান্তিক ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে শ্রীরামপুরের সুরকি ঘাটে স্নান করতে নেমেছিল তিন কিশোর-কিশোরী—১৭ বছর বয়সী নিশা রায়, ১২ বছর বয়সী অঞ্জলি মাহাতো এবং ১৬ বছর বয়সী রোহন প্রসাদ। তাদের বাড়ি শ্রীরামপুর পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলাতলায়। এদের মধ্যে দু’জন তলিয়ে যাওয়ার সময় রোহন তাদের বাঁচাতে গঙ্গায় ঝাঁপ দেয়। কিন্তু সে নিজেও জলের তোড়ে ভেসে যায়।

খবর পেয়ে শ্রীরামপুর থানা এবং হুগলি জেলার বিপর্যয় মোকাবিলা দল দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পুলিশ নিশা রায় ও রোহন প্রসাদের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দুটি শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে, অঞ্জলি মাহাতোর খোঁজ এখনও মেলেনি।

শেওড়াফুলিতে আরও এক যুবকের সলিল সমাধি
অন্যদিকে, সকালে শেওড়াফুলির নিস্তারিণী মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন হরিপালের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী প্রীতম দাস। গঙ্গার ঘাটে স্নান করতে নেমে সেও তলিয়ে যায়। পরে শ্রীরামপুরের আরেকটি ঘাট থেকে প্রীতমকে উদ্ধার করে পুলিশ।

এই বিষয়ে শ্রীরামপুরের ডিসিপি ২ অর্ণব বিশ্বাস জানান, “দুটি ঘটনায় মোট তিনজনকে আপাতত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা দল। যত শীঘ্র সম্ভব তাকে উদ্ধার করা হবে।”

জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের শোক
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ খতিয়ে দেখতে যান রিষড়া পুরসভার চেয়ারম্যান বিজয় সাগর মিশ্রা। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। শ্রীরামপুর পুরসভার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি যাতে এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।”

শ্রীরামপুর পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শান্তনু গঙ্গোপাধ্যায় এবং রোহন প্রসাদের বাবা শ্রীরাম প্রসাদ শোকে পাথর হয়ে জানিয়েছেন, “তিনজন গঙ্গা স্নান করতে নেমেছিল। তারা জোয়ারের জলে তলিয়ে যাচ্ছে দেখে রোহন তাদের বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, কিন্তু সে নিজেও তলিয়ে যায়।”

শেওড়াফুলিতে তলিয়ে যাওয়া যুবক প্রীতম দাসের দাদা মুকুল দাস জানান, “হরিপালের নারায়ণপুরে তাদের বাড়ি। গ্রামে আগামী মঙ্গলবার কালী পুজো আছে। সেই পুজো কমিটির সভাপতি ছিল প্রীতম। মাস দেড়েক আগে কলকাতায় একটা চাকরি পায়। পুজোর আগে আজ রবিবার গঙ্গা স্নান করে গঙ্গার জল নিয়ে বাড়ি যাবে বলে ঠিক করে। ভোর পাঁচটার ট্রেন ধরে হরিপাল থেকে শেওড়াফুলি আসে। গঙ্গায় স্নান করতে নেমেই তলিয়ে গিয়েছে।”