জনগণের ৬৬০ কোটি টাকার কী করলেন মহম্মদ ইউনূস? বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনলেন হাসিনা-পুত্র!

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই তার বিরুদ্ধে মারাত্মক সব অভিযোগ এনেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি ইউনূসকে ‘অবৈধ সরকারের দুর্নীতির প্রধান মাথা ও প্রশ্রয়দাতা’ আখ্যা দিয়েছেন এবং ৯ মাসে তার একাধিক সুবিধা গ্রহণের বিস্তারিত তালিকা তুলে ধরেছেন।
সজীব ওয়াজেদের অভিযোগের তালিকা:
সজীব ওয়াজেদ তার পোস্টে দাবি করেছেন যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা নিয়েছেন। তার অভিযোগগুলো নিম্নরূপ:
মামলা খারিজ: মুহাম্মদ ইউনূস শ্রম আইন লঙ্ঘন ও অর্থপাচারের মামলাসহ নিজের নামে থাকা সকল মামলা অনৈতিকভাবে দ্রুত খারিজ করিয়ে দিয়েছেন।
কর মওকুফ: তিনি জনগণের প্রাপ্য গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৬৬ কোটি টাকা কর মওকুফ করিয়েছেন।
মুনাফায় কর মওকুফ: গ্রামীণ ব্যাংকের সব মুনাফার উপর আগামী ৫ বছরের জন্য অনৈতিক কর মওকুফ করে সুবিধা নিয়েছেন।
গ্রামীণ ব্যাংকে শেয়ার হ্রাস: গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা শেয়ারের পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে এনেছেন।
নতুন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন: গ্রামীণ ইউনিভার্সিটির অনুমোদন নিয়েছেন এবং গ্রামীণ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেসের জনশক্তি রফতানির লাইসেন্স নিয়েছেন।
ডিজিটাল ওয়ালেট: গ্রামীণ টেলিকমের ডিজিটাল ওয়ালেট চালুর অনুমোদন নিয়েছেন।
সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলের হস্তান্তর: সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সামাজিক নিরাপত্তা ফান্ডের ৭০০ কোটি টাকা ‘সিঙ্গল সোর্স সিলেকশন’ (Single Source Selection) এর মাধ্যমে গ্রামীণ ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার লোক নিয়োগ: নিজের এনজিও-র কর্মী, আত্মীয়স্বজন এবং এলাকার মানুষদের নিয়োগ করেছেন।
শপথ গ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন:
উল্লেখ্য, গতকালও সজীব ওয়াজেদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বোমা ফাটিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার পুত্র সজীব আহমেদ পোস্ট করে লেখেন যে, সেনাবাহিনীর তরফে প্রকাশিত তালিকায় উল্লেখ করা ছিল শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার সময় সেনার হেফাজতে কারা ছিলেন। সেই তালিকায় বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিরও নাম ছিল। তাহলে মুহাম্মদ ইউনূসকে শপথবাক্য কে পাঠ করালেন? সজীব প্রশ্ন তোলেন, তবে কি তার শপথ গ্রহণ অবৈধ ছিল? প্রধান বিচারপতির সই জাল করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস?
সজীব ওয়াজেদের এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভবিষ্যৎ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইউনূসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।