কনস্টেবলের পোশাক চুরি করে পরে দাদাগিরি করছে সিভিক! গ্রেফতার করল পুলিশ

আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার এক বছরও কাটেনি। সেই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন এক সিভিক ভলান্টিয়ার, যা রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করেছিল। এবার আবারও সামনে এল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের কাণ্ড, যা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। কনস্টেবলের পোশাক পরে মদ্যপ অবস্থায় দাদাগিরি করার অভিযোগে খাস কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে।
ঘটনাটি ঘটেছে কসবার রাস্তায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, গতকাল সন্ধ্যায় এক যুবককে মদ্যপ অবস্থায় তাণ্ডব করতে দেখেন এলাকার মানুষজন। বেশ কিছুক্ষণ ধরে তিনি দাদাগিরি চালাচ্ছিলেন এবং স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন করলেই তাঁদের ওপর চড়াও হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে দেখে স্থানীয়রা ১০০ ডায়ালে ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কসবা থানার পুলিশ।
পুলিশ কর্মীরা ওই যুবকের কাছে তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে কনস্টেবল বলে দাবি করেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তিনি কনস্টেবল নন, বরং প্রগতি ময়দান থানার একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। প্রশ্ন ওঠে, একজন সিভিক ভলান্টিয়ার হয়ে তিনি কনস্টেবলের পোশাক পেলেন কোথা থেকে? যদিও এই প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি, তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, থানায় রাখা কোনো কনস্টেবলের পোশাকই তিনি নিয়ে পরেছিলেন। অভিযুক্ত নীরজ সিংকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সিভিক ভলান্টিয়ারের এই ধরনের আচরণে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, “খোঁজ নিয়ে দেখুন ওই পোশাকটা সিভিক ভলান্টিয়ার চুরি করেছিলেন, নাকি কনস্টেবলই ওটা ভাড়া দিয়েছিলেন? ওই পোশাক পরে টাকা তোলার কাজ করা হচ্ছিল?” তাঁর এই মন্তব্য সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভূমিকা এবং তাদের ওপর নজরদারি নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাঁশকুড়ায় এক কিশোরের আত্মহত্যার ঘটনাতেও এক সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম জড়িয়েছিল। বারবার সিভিক ভলান্টিয়ারদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ওঠায় তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রশিক্ষণ এবং তাদের কাজের পরিধি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন অনেকেই। পুলিশের সহযোগী হিসেবে নিযুক্ত এই সিভিক ভলান্টিয়ারদের এমন আচরণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের ভাবমূর্তি দুইয়ের জন্যই হানিকারক হয়ে উঠছে। এই ঘটনা রাজ্য পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে আবারও বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল।