বিটকয়েনের দামে নতুন রেকর্ড, জেনেনিন ক্রিপ্টো মার্কেটে কেন এই লাগামছাড়া বৃদ্ধি?

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েন প্রতিদিনই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যাচ্ছে। বুধবার এর দাম রেকর্ড ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪৪৭ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছিল, যা সর্বকালীন সর্বোচ্চ। যদিও বৃহস্পতিবার দাম সামান্য কমে প্রতি বিটকয়েন ১ লক্ষ ১০ হাজার ৭৫৪ মার্কিন ডলারে লেনদেন হচ্ছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৫ লক্ষ ১৭ হাজার ১৯৪ টাকা।
শুধু গত কয়েকদিন নয়, গত বছর নভেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এই ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ বছর জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের পদে বসার পর থেকে বিটকয়েনের দামের বৃদ্ধি আরও গতি পেয়েছে। এপ্রিল মাস থেকেই বিটকয়েনের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু কেন এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সির পক্ষে সওয়াল করেছেন। এর জেরে ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। আগামী দিনে মার্কিন প্রশাসন ক্রিপ্টোকারেন্সির সহায়ক পদক্ষেপ করবে, এই আশাতেই এতে বিনিয়োগ বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, বিটকয়েনের দাম বৃদ্ধির আরও কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো মার্কিন ডলারের দুর্বলতা। একাধিক আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থা মার্কিন অর্থনীতি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের ‘ট্যারিফ নীতি’ বিশ্ববাণিজ্যেও প্রভাব ফেলেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রথাগত বিনিয়োগকারীরাও ক্রিপ্টোকারেন্সির দিকে ঝুঁকছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম নেক্সো-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্টনি ট্রেনচেভ রয়টার্সকে বলেছেন, “বিটকয়েন আকাশছোঁয়া পরিস্থিতিতে পৌঁছে গিয়েছে।” তিনি মনে করছেন, বিটকয়েনের এই বৃদ্ধি টেক স্টকের প্রতিবিম্ব হয়ে উঠছে। এপ্রিল মাস থেকে ন্যাসড্যাক প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, এবং এই একই সময়ে বিটকয়েনের দামও বেড়েছে।
এই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৫ সালে বিটকয়েনের দাম দেড় লক্ষ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। ক্রিপ্টোকারেন্সির এই উল্লম্ফন কি বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঝুঁকি লুকিয়ে আছে?