তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল রাজ্যবাসী ! লোডশেডিংয়ের সমস্যা দূর করতে কী পদক্ষেপ রাজ্যের?

বৈশাখী দহনে পুড়ছে বাংলা। দিনের বেলায় প্রখর রোদ আর রাতে ভ্যাপসা গরমে কার্যত হাঁসফাঁস করছে রাজ্যবাসী। এরই মধ্যে কষ্ট বাড়াচ্ছে ঘন ঘন লোডশেডিং, যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। এবার এই সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা কমাতে বিদ্যুৎ দফতর বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্য বিদ্যুৎ দফতর জানিয়েছে, হাঁসফাঁস গরম থেকে বাঁচতে অনেকে নিজেদের বাড়িতে এসি বসাচ্ছেন, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিদ্যুৎ বিভাগের থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে সাব স্টেশনগুলির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে, যার জেরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। বিশেষত গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে এই সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
এই সমস্যার সমাধান করতে এবার সাব স্টেশনগুলির ক্ষমতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নদিয়া জেলায় এই কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, যে সকল সাব স্টেশনের ক্ষমতা ৫-৭ মেগাভোল্ট অ্যাম্পিয়ার অবধি, সেগুলিকে বৃদ্ধি করে ১০ মেগাভোল্ট অ্যাম্পিয়ার করা হচ্ছে। কল্যাণী, রানাঘাট সাব ডিভিশনের অধীন একাধিক সাব স্টেশনে এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি, বিদ্যুৎ সরবরাহে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেটা সুনিশ্চিত করতে রানাঘাট ডিভিশনে একটি নতুন সাব স্টেশনও বানানো হয়েছে।
যদিও তীব্র গরমে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা কমাতে বিদ্যুৎ দফতরের তরফ থেকে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, গ্রামীণ এলাকাগুলিতে এখনও সমস্যা রয়েছে বলে খবর। কৃষ্ণনগর ১ নং ব্লকের কুলগাছি অঞ্চলে রোজই কারেন্ট চলে যাওয়ার মতো সমস্যা হচ্ছে। কালীগঞ্জ থানা অঞ্চলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া অল্প ঝড়বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সমস্যা তো রয়েছেই।
বৈশাখের তীব্র গরমে একদিকে নাজেহাল রাজ্যবাসী, তার মধ্যে লোডশেডিংয়ের সমস্যা কষ্ট বাড়াচ্ছে। এই অসুবিধা দূর করতে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের নতুন উদ্যোগগুলি কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।