দুলছে সেতু, তবুও কমছে না ট্রাকের দৌরাত্ম্য, পারাপার করছেন হাজার হাজার মানুষ! সরগরম এলাকা

বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়ের ব্লকের হামিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খোসালপুর গ্রাম সংলগ্ন শালী নদীর উপর থাকা একটি জরাজীর্ণ সেতু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। যেকোনও মুহূর্তে ভয়ানক দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কারণ বেহাল এই সেতু দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত পারাপার করতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন সবকিছু জেনেও নির্বিকার।

শালীন নদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই সেতুটির অবস্থা গত কয়েক বছর ধরেই অত্যন্ত খারাপ। বিকল্প কোনো উপায় না থাকায়, এই জরাজীর্ণ সেতুর উপর দিয়েই হাজার হাজার মানুষ নিত্যদিন নদী পারাপার করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সেতুর অবস্থা এতটাই খারাপ যে যেকোনো মুহূর্তেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে। এর উপর দিয়ে দেদার বালি বোঝাই ট্রাক্টর যাতায়াত করছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষাকালে শালী নদীতে জল বাড়লে এই আতঙ্ক আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে এই সেতুটির অবস্থা খুবই খারাপ। প্রশাসনকে বারবার জানানো সত্ত্বেও এর সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাগড়াডাঙা, শিমুল ডাং সহ নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষদের প্রতিনিয়ত পাত্রসায়ের ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ব্লক অফিস সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এই সেতুটিই একমাত্র ভরসা। এছাড়াও, আশপাশের একাধিক স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারাও এই সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত করে।

স্থানীয়দের দাবি, বছর দুয়েক আগে শালী নদীতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখনই সেতুর এক দিকের গার্ডওয়াল ভেঙে পড়ে। সেই সময় থেকেই ধীরে ধীরে সেতুর নিচের একটা অংশ থেকে মাটি সরে যেতে থাকে, ফলে সেতুর মূল কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার উপর সেতুর উপরে থাকা দু’দিকের রেলিংয়ের সিমেন্ট খসে রড বেরিয়ে পড়েছে, যা আরও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বাম আমলে তৈরি হওয়া এই সেতু কবে সংস্কার হবে, সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

এই সেতুর বেহাল দশা নিয়ে রাজ্যের শাসকদল ও প্রশাসনকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন সোনামুখী বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি। তিনি বলেন, “এই সরকারের এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মাথাব্যথা নেই।” অন্যদিকে, তৃণমূল পরিচালিত হামিরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আসগর আলী বলছেন, “বিষয়টি বিডিও-র নজরে আছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।”