ক্রিমের মধ্যে থুতু মিশিয়ে ফেসিয়াল! সেলুন-কর্মীর কীর্তি ফাঁস, পুলিশের কড়া পদক্ষেপ

ক্রিমের সঙ্গে থুতু মিশিয়ে ফেসিয়াল করার এক জঘন্য ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গাজিয়াবাদ পুলিশ রবিবার (১৮ মে, ২০২৫) ২৪ বছর বয়সী এক সেলুন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নেটমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, এক সেলুন কর্মী গ্রাহককে ফেসিয়াল করার আগে হাতে নেওয়া ক্রিমে থুতু ফেলছেন এবং তারপর সেই ক্রিম দিয়েই গ্রাহকের মুখে মাখিয়ে দিচ্ছেন। এই আপত্তিকর দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা।
গাজিয়াবাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অফ পুলিশ প্রিয়র্ষি পাল জানিয়েছেন যে, এই ঘটনাটি গাজিয়াবাদের সেক্টর ৫-এর ওয়েভ সিটিতে অবস্থিত ‘লেভেল আপ’ নামে একটি সেলুনে ঘটেছে। সেলুনেরই অন্য কোনো কর্মী বা গ্রাহক এই ভিডিওটি ধারণ করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বেশ কিছু গ্রাহক ওয়েভ সিটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৭১ (বিপজ্জনক সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন কাজ) এবং ২৭২ (ক্ষতিকর কার্যক্রমে সামিল থাকা) ধারা অনুসারে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুসারে, পুলিশ অভিযুক্ত সেলুনটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তদন্ত চলছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের খোঁজার কাজও চলছে এবং ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। রবিবার রাতে পুলিশ দাসনার আসলাম কলোনির বাসিন্দা আরশাদ আলি নামে ওই সেলুন কর্মীকে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, আরশাদ আলি মাত্র এক সপ্তাহ আগেই এই সেলুনে কাজ শুরু করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর (২০২৪) লক্ষ্ণৌতেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছিল যে, এক সেলুন কর্মী একইভাবে গ্রাহকের মুখে ম্যাসাজ ফেসিয়াল করার জন্য থুতু লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। সেই গ্রাহক সিসিটিভি ফুটেজ দেখার পর বিষয়টি জানতে পারেন এবং সুশান্ত গলফ সিটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই সেলুন কর্মীকেও গ্রেফতার করেছিল।
একের পর এক এমন ঘটনা সামনে আসায় সেলুন ও বিউটি পার্লারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাহকদের সুরক্ষার জন্য এই ধরনের অসাধু কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।