নির্ধারিত সময়ের আগেই কেরলে বর্ষার আগমন! নয়া পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের

দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য সুখবর! ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যেই কেরলে প্রবেশ করবে। এর আগে আইএমডি ২৭ মে কেরলে বর্ষা আসার পূর্বাভাস দিয়েছিল, কিন্তু সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্ষা আরও দ্রুত আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
যদি আইএমডির এই পূর্বাভাস মিলে যায়, তাহলে ২০০৯ সালের পর ২০২৫ সালেই কেরলে বর্ষার আগমন নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে হবে। আইএমডি জানিয়েছে, ২০০৯ সালে ২৩ মে কেরলে বর্ষা নেমেছিল। মঙ্গলবার (২০ মে, ২০২৫) আবহাওয়া দফতর তাদের এক্স হ্যান্ডেলে (পূর্বতন টুইটার) জানিয়েছে, “আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে কেরলে মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”
সাধারণত, ১ জুন দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু কেরলে প্রবেশ করে এবং প্রায় ৮ জুলাইয়ের মধ্যে সারা দেশে বর্ষা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, ১৭ সেপ্টেম্বর উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষার বিদায় প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ১৫ অক্টোবরের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হয়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষার আগমন
সাল তারিখ
২০২৪ ৩০ মে
২০২৩ ৮ জুন
২০২২ ২৯ মে
২০২১ ৩ জুন
২০২০ ১ জুন
২০১৯ ৮ জুন
২০১৮ ২৯ মে
Export to Sheets
এল নিনোর প্রভাবমুক্ত স্বাভাবিক বর্ষার পূর্বাভাস
চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই আবহাওয়া দফতর পূর্বাভাস দিয়েছিল যে, এল নিনোর প্রভাব এবার বর্ষার পথে বাধা হবে না। সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে স্বাভাবিকের থেকে কম বৃষ্টি হয়। তবে এবার এল নিনো পরিস্থিতি দুর্বল থাকায় দেশে স্বাভাবিকের থেকে কিছুটা বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আইএমডির হিসাব অনুযায়ী, গত ৫০ বছরের গড়ে ৯৬ শতাংশ এবং ১০৪ শতাংশের মাঝামাঝি ৮৭ সেমি বৃষ্টিপাতকে ‘স্বাভাবিক’ বলে ধরা হয়।
আইএমডির সংজ্ঞা অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ৯০ শতাংশের কম বৃষ্টি হলে তাকে ‘ঘাটতি’ বলা হয়। ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের মাঝামাঝিকে ‘স্বাভাবিকের থেকে কম’, ১০৫ থেকে ১১০ শতাংশের মধ্যে হলে তাকে ‘স্বাভাবিকের থেকে বেশি’ এবং ১১০ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাতকে ‘অধিক’ বৃষ্টিপাত বলে চিহ্নিত করা হয়।
ভারতের কৃষিকাজে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৪২.৩ শতাংশই কৃষির উপর নির্ভরশীল এবং ভারতের জিডিপি’র ১৮.২ শতাংশ কৃষি থেকে আসে। তাই বর্ষার আগমন এবং তার পরিমাণ কৃষিকাজের সাফল্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে। নির্ধারিত সময়ের আগে বর্ষার আগমন দেশের কৃষক সমাজকে স্বস্তি দিয়েছে এবং কৃষিক্ষেত্রে সুদিন ফেরার আশা জাগিয়েছে।