ডায়মন্ড হারবারের ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু! আতঙ্কে শতাধিক পরিবার, হাতে প্রাণ নিয়ে পারাপার বাচ্চা থেকে বুড়ো

ডায়মন্ড হারবার খালের উপর মগরাহাট ও মহিতলা এলাকার সংযোগকারী একটি কাঠের সেতু এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেতুর বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত, ভেঙে পড়েছে একাধিক পাটাতন, আর এর জেরেই প্রাণ হাতে নিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন আশেপাশের প্রায় শতাধিক পরিবারের সদস্যরা। গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ভোগান্তি চললেও প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত মহিতলা এলাকার এই সেতুটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে কৃষিজীবী মানুষ এবং অসুস্থ রোগীদের নিয়ে হাসপাতাল যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই সেতুই একমাত্র ভরসা। কিন্তু এর বেহাল দশার কারণে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিকবার সেতুর কাঠ ভেঙে অনেকে খালের জলে পড়ে আহত হয়েছেন। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও আতঙ্কিত।

জালাল উদ্দিন লস্কর নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “দীর্ঘ দুই বছর ধরে এই কাঠের সেতুর ভগ্নপ্রায় দশা। বারবার স্থানীয় পঞ্চায়েত ও বিধায়ককে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো রকম কাজ হয়নি। প্রায় সময় এই সেতুর কাঠ ভেঙে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। বেহাল কাঠের সেতুর কারণে কৃষকেরাও নিজেদের জমিতে চাষবাস করেও ফসল বাড়ি নিয়ে আসতে পারছেন না। এলাকার মহিলারা জল নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই অবিলম্বে এই বিপজ্জনক সেতুটি সংস্কার করুক রাজ্য সরকার। একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীকেও অভিযোগ জানিয়েছি, তিনি আশ্বাসও দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনও কাজ শুরু হয়নি।”

রুবিয়া বিবি নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধাই আমরা পাই না। শুধু ভোটের সময় প্রার্থীরা আসে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। এই কাঠের সেতু এতটাই বিপজ্জনক যে স্কুলে যাওয়ার সময় সন্তানদের নজরদারি করতে হয়, এই বুঝি কাঠের পোল ভেঙে নিচে পড়ে গেল!” তিনি আরও জানান, কৃষকেরা তাদের ধান নিয়ে যেতে পারেন না, এমনকি অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যেতেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। কিছুদিন আগেই জল নিয়ে যাওয়ার সময় এক গৃহবধূ পোল ভেঙে খালে পড়ে গিয়েছিল। রুবিয়া বিবির কথায়, “সব সময় আমরা আতঙ্কে থাকি। প্রশাসনের কাছে আমাদের অনুরোধ অবিলম্বে এই কাঠের সেতু মেরামত করুক, না-হলে আগামীদিনে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটবে।”

মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের মাহিতলা খালধার এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার এই বিপজ্জনক কাঠের সেতুর যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছে। যদিও মগরাহাট পূর্ব বিধানসভার বিধায়ক নমিতা সাহা দ্রুত কাঠের সেতু মেরামত ও কংক্রিটের সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মগরাহাট ২ নম্বর ব্লকের বেশকিছু বিপজ্জনক কাঠের সেতুর আমরা সার্ভে করেছি। তার মধ্যে মাহিতলা এলাকার কাঠের সেতু রয়েছে। ইতিমধ্যেই ডিপিআর (ডিটেইলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট) করে রাজ্যের সেচ দফতর ও পূর্ত দফতরের কাছে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই মাহিতলা এলাকায় ওই কাঠের সেতুর কাজ শুরু হবে। বিকল্প একটি কংক্রিটের সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে আমাদের। আগামীদিনে এলাকার মানুষের এই সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর রাজ্য সরকার।”

তবে, এই আশ্বাসবাণী কবে বাস্তবায়িত হবে এবং স্থানীয় মানুষজন এই বিপজ্জনক কাঠের সেতু থেকে মুক্তি পাবেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।