আদালত কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে……’, ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি

ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের করা ১১টি পিটিশনের ওপর আজ সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই এবং বিচারপতি এজি মাসিহ-এর ডিভিশন বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি করেন। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি গাভাই স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, সংসদে পাশ হওয়া কোনো আইন সংবিধানসম্মত হিসেবে গণ্য হয় এবং আদালত কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে, যদি কোনো গুরুতর অসংগতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
গত মাসে সংসদে পাশ হওয়া এই আইনটি নিয়ে আবেদনকারীদের প্রধান আপত্তির তিনটি মূল বিষয় আদালত আগেই চিহ্নিত করেছিল:
১. ওয়াকফ জমির ব্যবহার: ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবহার এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২. ওয়াকফ কাউন্সিলে অমুসলিম সদস্যদের নিয়োগ: এই আইনের অধীনে ওয়াকফ কাউন্সিলে অমুসলিম সদস্যদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
৩. রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডগুলির কার্যক্রম ও সরকারের জমি চিহ্নিতকরণ: রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডগুলির কার্যকারিতা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ওয়াকফ জমি চিহ্নিতকরণের পদ্ধতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকার এই তিনটি বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং আশ্বস্ত করেছে যে, এই বিষয়গুলো নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে অনুরোধ করেছেন যেন শুনানি শুধুমাত্র ওই তিনটি বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকে, কারণ আবেদনকারীদের বক্তব্যে আরও অনেক বিষয় উঠে এসেছে যা মূল তিনটি বিষয়ের বাইরে।
আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়ালকারী সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিবাল এবং অভিষেক মণু সিংভি অবশ্য এই দাবি মেনে নেননি। সিবাল বলেন, “আইনটি ওয়াকফ জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।” তিনি আরও যুক্ত করেন, “নতুন আইনে বলা হয়েছে, শুধু পাঁচ বছর ধরে ইসলামী রীতিতে বিশ্বাসী ব্যক্তি ওয়াকফ করতে পারে। এটি সংবিধানবিরোধী।” সিবাল আরও দাবি করেন যে, গ্রাম পঞ্চায়েত বা একক ব্যক্তি কোনো জমি নিয়ে অভিযোগ তুলতে পারে এবং সেই জমিটি আর ওয়াকফ হিসেবে চিহ্নিত থাকবে না। তাঁর মতে, “সরকারি কর্মকর্তা নিজেই বিচারক হিসেবে কাজ করবেন,” যা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুদান প্রসঙ্গে সিবাল বলেন, “মসজিদ, মন্দির বা অন্য ধর্মীয় স্থানগুলির জন্য রাষ্ট্র আর্থিক সহায়তা দিতে পারে না।” এর উত্তরে প্রধান বিচারপতি গাভাইও বলেছেন, “মসজিদ বা দরগাহর জন্য সরকার কিছু অনুদান দেয়, তবে মসজিদগুলির জন্য তা সীমিত।”
প্রধান বিচারপতি গাভাই আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে, “আদালত কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করবে, যখন কোনো গুরুতর প্রমাণ পাওয়া যাবে।” এর মধ্য দিয়ে আদালত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সংবিধানসম্মত আইন বাতিল করতে হলে তার স্বপক্ষে জোরালো সাংবিধানিক বা আইনি যুক্তি প্রয়োজন।
শুনানির পর আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য সময় নির্ধারণ করেছে। ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে আরও বিশদ বিশ্লেষণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই মামলাটি ধর্মীয় সম্পত্তি এবং সেগুলির ব্যবস্থাপনা নিয়ে দেশের আইনি ও সামাজিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করছে, যার প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।