“পান্তাভাতের পর এবার রাজ কচুরি”-‘মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া’র টেবিলে ফের দেশীয় খাবার

ভারতীয় খাবার যে আন্তর্জাতিক স্তরেও কতটা সমৃদ্ধ এবং জনপ্রিয়, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। দূর প্রবাসের মাটিতে, মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়ার মতো জনপ্রিয় প্রতিযোগিতার মঞ্চে এবার বিচারকদের মন জয় করল দেশীয় চাট রাজ কচুরি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী দেপিন্দর ছিব্বা তার হাতের জাদু দিয়ে এই সুস্বাদু পদটি তৈরি করেছিলেন। আর এই রাজ কচুরির স্বাদ এবং উপস্থাপনা এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে বিচারক সোফিয়া লেভিন দেপিন্দরকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়ে বলেন, “যদি রাজ কচুরি স্ট্রীট ফুডের রাজা হয়ে থাকেন তাহলে রানি হলে তুমি।”
যাঁরা মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া নিয়মিত দেখেন, তাঁরা জানেন দেপিন্দর ছিব্বা বেশ কয়েক বছর ধরে এই শোয়ের বিচারকদের মন জয় করে আসছেন তার দেশি পদ দিয়ে। যার মধ্যে ছোলে, কড়াই পনির, বাঁধাকপির পরোটা, ভিন্ডি ফ্রাই, ফ্রায়েড রাইস এবং তার ঠাকুমার বিশেষ রেসিপি আচার সহ বিভিন্ন ভারতীয় পদ রান্না করে তিনি বিচারকদের মুগ্ধ করেছেন। তিনি মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়া সিজন ১৩-তেও অংশ নিয়েছেন এবং সবসময় তার ভারতীয় খাবার-দাবারকে সামনে এনেছেন।
ছোটবেলার রাজ কচুরি:
এই সিজনে দেপিন্দর তার ছোটবেলার অন্যতম প্রিয় স্ট্রীট ফুড রাজ কচৌরিকে সকলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি এই খাবারটি বিচারকদের সামনে পরিবেশন করার সময় বলেন যে এই খাবারটি তার পুরো ছোটবেলাকে তুলে ধরে, যা এর প্রতি তার ভালোবাসা এবং গভীর সংযোগ প্রকাশ করে। তিনি মশলাদার আলু, ছোলা, মশলা দিয়ে দই সহকারে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে রাজ কচুরি তৈরি করেছিলেন। দেপিন্দর যখন এই পদটি তৈরি করছিলেন এবং পরিবেশন করছিলেন, তখন বিচারকেরা এটির বর্ণনায় মুগ্ধ হয়ে যান এবং খাবারটি দেখে তাদের জিভ দিয়ে জল পড়ছিল বলে তারা জানান।
পান্তাভাতের সাফল্যের পর রাজ কচুরি:
প্রসঙ্গত, এর আগেও মাস্টারশেফ অস্ট্রেলিয়াতে পান্তাভাতের মতো একটি সাধারণ বাঙালি পদ বিচারকদের মন জয় করে নিয়েছিল। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিযোগী কিশ্বর চৌধুরী, তিনি বিচারকদের মন জিতেছিলেন পান্তা ভাত, আলু ভর্তা এবং মাছভাজা রান্না করে। পান্তা ভাত ছাড়াও নানা রকম মাছের ঝোল, খিচুড়ি, বেগুনের ভর্তা, ফুচকার মতো নানা বাঙালি পদ তিনি এই প্রতিযোগিতার বহু পর্বে পেশ করেছিলেন অতীতে। দেপিন্দরের রাজ কচুরি সেই সাফল্যের ধারাকেই এগিয়ে নিয়ে গেল।
ভারতের বাসিন্দা দেপিন্দর ছিব্বা একজন রান্না বিশেষজ্ঞ এবং তার রান্নার কৌশল ও উপস্থাপনা ইতিমধ্যেই অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার রাজ কচুরি আবারও প্রমাণ করল যে ভারতীয় স্ট্রীট ফুডের স্বাদ এবং বৈচিত্র্য বিশ্ব মঞ্চেও অনায়াসে সকলের মন জয় করতে পারে। এই ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ভারতীয় রান্নার এই উপস্থাপনা দেশের সমৃদ্ধ খাদ্য সংস্কৃতিকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
রাজ কচুরির রেসিপি:
আপনারাও যদি বাড়িতে বানাতে চান মাস্টারশেফের বিচারকদের মন জয় করা রাজ কচুরি, তাহলে নিচে রইল তার রেসিপি:
উপকরণ:
অঙ্কুরিত ছোলা: ৩০০ গ্রাম
সেদ্ধ আলু: ৪ টি
ময়দা: ২৫০ গ্রাম
সুজি: ১০০ গ্রাম
কচুরি ভাজার জন্য সাদা তেল: পরিমাণ মতো
নুন: স্বাদ মতো
মরিচ গুঁড়ো: ১ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো: ১ চা চামচ
টক দই: ৫০০ গ্রাম
তেঁতুলের চাটনি: এক কাপ
পুদিনার চাটনি: এক কাপ
বেদানার বীজ: এক কাপ
বিকানেরি ভুজিয়া বা ঝুরি ভাজা: এক কাপ
ধনে পাতা (সূক্ষ্মভাবে কাটা): ২ চা চামচ
রেসিপি:
১. রাজ কচুরির বাইরের খোলস তৈরির জন্য প্রথমে ময়দা ভালো করে জল দিয়ে মেখে একটি ডো তৈরি করুন।
২. এবার এই ময়দার ডো থেকে ছোট ছোট করে লেচি তৈরি করুন।
৩. প্রতিটি লেচি থেকে একটি পুরির আকারে বেলে নিন।
৪. একটি প্যানে পরিমাণ মতো সাদা তেল গরম করুন। তেল ভালো করে গরম হয়ে গেলে পুরিগুলোকে ডিপ ফ্রাই করে নিন। সোনালি ও মচমচে করে ভেজে তুলে রাখুন।
৫. পুর তৈরির জন্য, পরিমাণ মতো নুন, গোল মরিচ গুঁড়ো ও গরম মশলা গুঁড়ো দিয়ে অঙ্কুরিত ছোলা সেদ্ধ করে নিন।
৬. এবার সেদ্ধ আলুগুলোকে হালকা করে মেখে সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে যোগ করুন এবং ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন।
৭. যে কচুরিগুলো ভেজে রেখেছেন, সেগুলোর মাঝখানে আঙুল দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে ভেঙে বা গর্ত করে এই আলুর মিশ্রণটি পুরে দিন।
৮. একটি বাটিতে দইটা ভালো করে ফেটিয়ে নিন। তাতে সামান্য নুন দিন।
৯. এবার দইয়ের মিশ্রণটি পুরের ওপর দিয়ে দিন।
১০. এরপর এর ওপর পুদিনার চাটনি আর তেঁতুলের চাটনি দিয়ে দিন।
১১. সবশেষে ওপর দিয়ে বেদানার বীজ এবং ঝুরি ভাজা বা বিকানেরি ভুজিয়া ছড়িয়ে দিন। সূক্ষ্মভাবে কাটা ধনে পাতা দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন সুস্বাদু রাজ কচুরি।