“মজুত ছিল প্রচুর বোমা…”-দুর্গাপুরে পরিত্যক্ত বাড়িতে ভয়ানক বিস্ফোরণ, আহত নাবালক

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের একটি গ্রামে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির একাংশ ধসে পড়েছে এবং ছাদের পুরো চাল উড়ে গেছে। ঘটনায় পাশের বাড়ির একটি ছেলেও জখম হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে বোমা মজুত ছিল এবং সেগুলিই ফেটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পিছনে রাজনৈতিক কোন্দলের অভিযোগও উঠেছে।

দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহা থানার অন্তর্গত আরতি গ্রামের উত্তরপাড়া এলাকায় এই বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে গোটা গ্রাম কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির একাংশ সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়ে এবং তার ছাদের পুরো চাল উড়ে যায়। এই ঘটনায় পাশের বাড়ির একটি ছেলে জখম হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে যান গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো দাবি, ওই পরিত্যক্ত বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই বোমা মজুত রাখা ছিল এবং অসাবধানতাবশত সেগুলি ফেটে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। কে বা কারা এই বিপজ্জনক সামগ্রী ওই বাড়িতে এনে রেখেছিল, তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লাউদোহা থানার পুলিশ। পুলিশ এসে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে। ঘটনাস্থলে জোরদার করা হয় পুলিশি নজরদারি। বোমার উৎস এবং পরিত্যক্ত বাড়িতে কারা বোমা মজুত করেছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বোমা মজুতের পিছনে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকতে পারে। প্রসঙ্গত, আরতি গ্রামটি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবিত এলাকা হিসেবে পরিচিত এবং এখানে দীর্ঘদিন ধরেই দলের একাধিক গোষ্ঠীর মধ্যে কোন্দল লেগে রয়েছে। স্থানীয় এক তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের নেতার বাড়ি বিস্ফোরণের জায়গার একদম কাছেই অবস্থিত, যা তদন্তে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের বিভিন্ন গোষ্ঠী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রায়ই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করে থাকে। এই বিস্ফোরণের পিছনে সেই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত কিছু নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এই বিস্ফোরণের ঘটনা এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক কোন্দলের অন্ধকার দিকটি ফের একবার সামনে এনেছে।