জ্যোতি মালহোত্রা কাণ্ডে এবার কলকাতার সৌমিত ভট্টাচার্য, একসঙ্গে কাশ্মীর যাত্রা, সঙ্গে ছিলেন ওড়িশার ইউটুবার প্রিয়াঙ্কা

পাকিস্তানের ‘চর’ সন্দেহে হরিয়ানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জ্যোতি মালহোত্রা কাণ্ডে এবার চাঞ্চল্যকর কলকাতা যোগের তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, গ্রেফতারির কয়েক মাস আগেই নাকি এই ইউটিউবার কলকাতায় এসেছিলেন। শুধু কলকাতা নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি ব্যারাকপুর এবং উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জায়গাতেও তার আনাগোনা ছিল। হরিয়ানা পুলিশ জ্যোতিকে গ্রেফতার করার পরেই তদন্তে এই সমস্ত তথ্য উঠে এসেছে।

জ্যোতি মালহোত্রার ইউটিউব চ্যানেলের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা এমন কিছু এলাকায় তার উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন, যেগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বায়ুসেনার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতায় থাকাকালীন জ্যোতি শহরের বেশ কিছু জনবহুল এলাকা, দর্শনীয় স্থান এবং শিয়ালদহ স্টেশনের ভিডিও তুলেছিলেন। এছাড়াও, ব্যারাকপুরের একটি বিরিয়ানির দোকানে তাকে রিল তৈরি করতেও দেখা গেছে। উল্লেখ্য, ব্যারাকপুর ভারতীয় সেনা, বায়ুসেনা এবং রাজ্য পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গত বছর অগাস্ট মাসে বাগডোগরা হয়ে ভুটান যাওয়ার কথাও জ্যোতি তার ইউটিউব ভিডিওতে জানিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি শিলিগুড়ির একটি হোটেলে ছিলেন। বাগডোগরা এবং তার সংলগ্ন এলাকাতেও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দাদের প্রশ্ন, তবে কি সেনা সংক্রান্ত তথ্য জোগাড় করার উদ্দেশ্যেই জ্যোতি এই জায়গাগুলি ঘুরেছিলেন?

জ্যোতির আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানতে হরিয়ানা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি তদন্ত চালাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, হুগলির শেওড়াফুলিতে একটি বিয়েবাড়িতেও গিয়েছিলেন জ্যোতি। ওই বাড়ির সঙ্গে জ্যোতির কী সম্পর্ক ছিল বা কেন তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, সেই বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে পুলিশ।

এদিকে, এই ঘটনায় কলকাতার আরও এক ইউটিউবার পুলিশের নজরে এসেছেন। জানা গিয়েছে, সৌমিত ভট্টাচার্য নামে এক ভ্লগার জ্যোতিকে কলকাতা ঘুরিয়ে দেখিয়েছিলেন। এমনকি কাশ্মীরের দুধপাথরিতেও জ্যোতি এবং সৌমিত একসঙ্গে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন ওড়িশার আরেক ইউটিউবার প্রিয়াঙ্কা সেনাপতিও। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংক্রান্ত তথ্য সামনে আসার পরেই সৌমিত গোয়েন্দাদের নজরে আসেন। জানা গেছে, আসানসোলের বাসিন্দা সৌমিতের বাবা উলুবেড়িয়ার একটি কলেজের অধ্যক্ষ এবং তার মা দিল্লির ইন্দ্রপ্রস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা। তবে সৌমিত ভ্রমণকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ট্রাভেল ভ্লগিং করেন।