অপারেশন সিঁদুর ও কর্নেল সোফিয়াকে নিয়ে কটাক্ষ, ফেসবুক পোস্ট করে গ্রেফতার অধ্যাপক

সম্প্রতি সংঘটিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করে গ্রেফতার হলেন হরিয়ানার অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর আলি খান মাহমুদাবাদ। তাঁর বিরুদ্ধে এই অপারেশনের সাথে যুক্ত একজন মহিলা সেনাকর্তা কর্নেল সোফিয়া কুরেশিকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, বিজেপি যুব মোর্চার একটি অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক মাহমুদাবাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এরপরই তাকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। হরিয়ানা মহিলা কমিশনও তাঁর মন্তব্যের বিষয়ে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে। মহিলা কমিশন পাঠানো নোটিশে অধ্যাপকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগ, তিনি কর্নেল সোফিয়া কুরেশির মিডিয়া ব্রিফিং এবং তা নিয়ে ডানপন্থী মহলে হওয়া উচ্ছ্বসিত প্রশংসাকে কটাক্ষ করে ‘লোকদেখানো’ এবং ‘দ্বিচারিতা’ বলে উল্লেখ করেছেন। অধ্যাপকের পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, যারা কর্নেল সোফিয়া কুরেশির প্রশংসা করছেন, তারা গণপিটুনি বা বুলডোজার দিয়ে সম্পত্তি ধ্বংস করার মতো বিষয়গুলিতে কেন নীরব থাকেন।

যদিও অধ্যাপক মাহমুদাবাদ পরে দাবি করেন, তাঁর মন্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার মন্তব্যে কোনোভাবেই নারীবিদ্বেষ ছিল না। বরং আমি প্রশংসা করেছি যে একজন মুসলিম নারী অফিসারকে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্রিফিংয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি শুধু এইটুকু বলতে চেয়েছি যে, এই অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা যেন দেশের অন্যান্য মুসলিম নাগরিকদের প্রতিও প্রসারিত হয়।”

হরিয়ানা পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অজিত সিং নিশ্চিত করেছেন যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পর্কিত মন্তব্য করার কারণেই অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সেনার একজন মহিলা অফিসারকে অবমাননা করা এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের দাবি, তিনি যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা সেনাবাহিনীর মহিলা সদস্যদের সম্মানহানি করতে পারে এবং সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে সক্ষম।

এই ঘটনায় অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনেপত ক্যাম্পাসের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের অধ্যাপক মাহমুদাবাদকে আজ সকালে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমরা বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি এবং পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করব।”

অধ্যাপক মাহমুদাবাদের গ্রেফতারির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি হরিয়ানা পুলিশের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেছেন, “হরিয়ানা পুলিশ একজন বিজেপি কর্মীর সামান্য অভিযোগের ভিত্তিতে একজন অধ্যাপককে গ্রেফতার করল? উনি তো দেশবিরোধী বা পুরুষতান্ত্রিক কোনো মন্তব্য করেননি।” সিপিআইএমের পলিটব্যুরো সদস্য সুভাষিনী আলিও এই ঘটনায় ‘হতবাক’ বলে মন্তব্য করেছেন। ঘটনাটি কেন্দ্র করে রাজনৈতিক এবং সামাজিক মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অধ্যাপক বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।