‘পুরনোরাই পার্টির ভরসা’ – দলের অন্দরের সংঘাত নিয়ে মন্তব্য দিলীপ ঘোষের, অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে তীব্র খোঁচা

নিজের দল বিজেপির অভ্যন্তরে ‘পুরনো বনাম নতুনের’ সংঘাত নিয়ে হতাশা এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি মনে করেন, দলের ভরসা আসলে পুরনোরাই, অনেকটা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে পুরনো নেতাদের (যেমন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল) উপর নির্ভর করেন, ঠিক তেমনই।

রবিবার বিকেলে খড়্গপুরে একটি বিজেপি মিছিল শুরুর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। মিছিলটি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য এবং ভারতীয় সেনাদের বীরত্বকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে কিছু প্রতিকূলতার কারণে এদিন তাকে কিছুটা হতাশ ও বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল।

দলীয় অন্দরের সংঘাত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ সরাসরি বলেন, “পুরনো লোকেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আছেন। এই পুরনো আর নতুনের মধ্যে যে ঝগড়া চলছে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরনোদের উপর ভরসা রেখেছেন। আর নতুনরা চাইছে এদেরকে সরিয়ে জায়গা নিতে! এই যে পার্টির মধ্যে একটা শুরু হয়ে গেছে, এটা আমরা বিভিন্ন জায়গাতেই দেখতে পাচ্ছি। সেজন্য যেমনই হোক, পুরনো লোকেরাই পার্টির ভরসা!” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি যে নিজের দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন, তা স্পষ্ট।

বিভিন্ন দলীয় বৈঠকে তাকে আমন্ত্রণ না জানানো প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে দিলীপ ঘোষ বলেন যে এ ধরনের বৈঠক লেগেই থাকে এবং সেখানে কেবল পদাধিকারীরাই উপস্থিত থাকেন, তার সেখানে যাওয়ার কথা নয়। বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে দেখা না যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কেবল বলেন, “এই তো আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমি।” যা ছিল যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ।

চাকরি হারানো শিক্ষকদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জ এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রসঙ্গেও দিলীপ ঘোষ তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল শিক্ষকদের আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে এবং যেভাবে আরজি করের ডাক্তারদের আন্দোলন ভাঙার চেষ্টা হয়েছিল, ঠিক একই ভাবে শিক্ষকদের আন্দোলনও ভাঙার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের অপমান ও অত্যাচার দুটোই করা হচ্ছে এবং এর ফল তৃণমূলকে ভুগতে হবে। সব মিলিয়ে, অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গ টেনে নিজের দলের অন্তর্কলহ থেকে শুরু করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি—বিভিন্ন বিষয়েই এদিন খোলামেলা মন্তব্য করেন দিলীপ ঘোষ।