অটল পেনশন যোজনায় স্বামী-স্ত্রী উভয়েই পেতে পারেন ১০,হাজার! জানেন কীভাবে?

দেশের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক সুরক্ষার জন্য সরকার নানা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনা করে থাকে, যার মাধ্যমে বহু মানুষ উপকৃত হন। তেমনই কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হলো ‘অটল পেনশন যোজনা’। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের কথা মাথায় রেখে তৈরি এই যোজনার একটি বিশেষ সুবিধা হলো, এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই মিলে ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পেতে পারেন।

অটল পেনশন যোজনা (APY) হলো ভারত সরকার কর্তৃক সমর্থিত একটি পেনশন প্রকল্প, যেখানে গ্রাহকদের তাদের অবদানের ভিত্তিতে ৬০ বছর বয়স থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ মাসিক পেনশন প্রদান করা হয়। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিকদের অবসর জীবনে আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর করা।

অটল পেনশন যোজনায় মাসিক পেনশনের পাঁচটি ভিন্ন স্তর বা স্ল্যাব নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকরা তাদের মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ অনুযায়ী ৬০ বছর বয়সের পর থেকে মাসিক ১০০০ টাকা, ২০০০ টাকা, ৩০০০ টাকা, ৪০০০ টাকা অথবা সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পেনশন বেছে নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি ১৮ বছর বয়সে এই প্রকল্পে যুক্ত হন এবং প্রতি মাসে ২১০ টাকা বিনিয়োগ করেন, তাহলে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর তিনি প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা করে মাসিক পেনশন পাবেন।

এই প্রকল্পের একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় দিক হলো স্বামী-স্ত্রীর জন্য প্রদত্ত সুবিধা। স্বামী এবং স্ত্রী যদি উভয়েই আলাদাভাবে এই যোজনায় যুক্ত হন এবং প্রত্যেকে মাসিক ৫০০০ টাকা সর্বোচ্চ পেনশনের জন্য নির্ধারিত মাসিক কিস্তি নিয়মিত জমা করেন, তাহলে ৬০ বছর বয়সের পর দু’জনে মিলে প্রতি মাসে মোট ১০,০০০ টাকা (৫০০০ + ৫০০০) পেনশন পাবেন। একটি জয়েন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেও স্বামী-স্ত্রীর জন্য এই প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।

অটল পেনশন যোজনায় যোগদানের জন্য একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা রয়েছে। এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য গ্রাহকের বয়স সর্বনিম্ন ১৮ বছর এবং সর্বোচ্চ ৪০ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। এই বয়সের মধ্যেই প্রকল্পে যুক্ত হয়ে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত মাসিক বা ত্রৈমাসিক/ষাণ্মাসিক ভিত্তিতে অবদান রাখতে হবে।

নির্বাচিত পেনশনের পরিমাণ এবং প্রকল্পে যোগদানের বয়সের উপর নির্ভর করে মাসিক বিনিয়োগের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়। মাসিক ৫০০০ টাকা সর্বোচ্চ পেনশন পেতে হলে বিভিন্ন বয়সে মাসিক কিস্তি হবে নিম্নরূপ:

১৮ বছর বয়সে যোগ দিলে: ২১০ টাকা
২৫ বছর বয়সে যোগ দিলে: ৩৭৬ টাকা
৩০ বছর বয়সে যোগ দিলে: ৫৭৭ টাকা
৩৫ বছর বয়সে যোগ দিলে: ৯০২ টাকা
৩৯ বছর বয়সে যোগ দিলে: ১৩১৮ টাকা
স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলে মাসিক ১০,০০০ টাকা পেনশন পেতে চাইলে, দু’জনকেই আলাদাভাবে ৫০০০ টাকা পেনশনের জন্য আবেদন করতে হবে এবং নিজ নিজ বয়সের নির্ধারিত মাসিক কিস্তি জমা দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি স্বামী-স্ত্রীর বয়স ২৫ বছরের কাছাকাছি হয় এবং তারা উভয়েই ৫০০০ টাকার স্ল্যাব বেছে নেন, তবে প্রত্যেককে ৩৭৬ টাকা করে মোট মাসিক কিস্তি হবে ৭৫২ টাকা (৩৭৬+৩৭৬)। একইভাবে, যদি দু’জনেরই বয়স ৩০ বছরের কাছাকাছি হয়, তাহলে প্রত্যেককে ৫৭৭ টাকা করে দু’জনের মোট মাসিক কিস্তি হবে ১১৫৪ টাকা (৫৭৭+৫৭৭)। এই নিয়ম অনুসারে নিয়মিত কিস্তি জমা দিলে, ৬০ বছর বয়স হলেই স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রতি মাসে মোট ১০,০০০ টাকা পেনশন পাবেন।

অটল পেনশন যোজনা দেশের নাগরিকদের, বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদানের একটি কার্যকর মাধ্যম। বিশেষ করে স্বামী-স্ত্রীর জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য সুবিধা প্রদান করে, যার মাধ্যমে তারা একসাথে একটি সম্মানজনক মাসিক পেনশন নিশ্চিত করতে পারেন। যারা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে আগ্রহী, তারা যেকোনো ব্যাংক বা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন এবং বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারেন।