মাস্টারস্ট্রোক! পাকিস্তানকে ‘চেনানোর’ কাজে বাংলার দুই মুখকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী, কারা জানেন?

পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোণঠাসা করতে এবং তাদের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের দরবারে সরব হতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। বিভিন্ন দেশে ভারতের বার্তা পৌঁছে দিতে এবার সাতটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠাচ্ছে দিল্লি। এই প্রতিনিধিদলগুলির মাধ্যমে পাকিস্তান যে কীভাবে সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়, তা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে।
এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রের তরফে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৫৯ জন সাংসদ এবং প্রাক্তন বিদেশ মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নিয়ে সাতটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল গঠন করা হয়েছে। এই প্রতিনিধিদলগুলি বিশ্বের একাধিক দেশে সফর করবে।
এই সাতটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। এদের মধ্যে রয়েছেন যথাক্রমে কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর, বিজেপি সাংসদ রবিশঙ্কর প্রসাদ, জেডিইউয়ের সঞ্জয়কুমার ঝা, বিজেপির বৈজয়ন্ত পাণ্ডা, ডিএমকে-র কানিমোঝি করুণানিধি (তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম করুণানিধির কন্যা), এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে এবং শিবসেনার শ্রীকান্ত শিন্ডে (মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের পুত্র)।
এই প্রতিনিধিদলগুলিতে বাংলার অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মতো। বাংলার দুই সাংসদ এই গুরুত্বপূর্ণ মিশনে সুযোগ পেয়েছেন। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ইউসুফ পাঠান এবং রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য এই দলে থাকছেন। জানা গেছে, ইউসুফ পাঠান জেডিইউ নেতা সঞ্জয়কুমার ঝা-এর নেতৃত্বাধীন দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, আর শমীক ভট্টাচার্য রয়েছেন বিজেপি নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদের দলে। এছাড়াও, প্রাক্তন বিদেশ সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এবং এমজে আকবরের মতো ব্যক্তিত্বরাও এই প্রতিনিধিদলে থাকছেন, যাদের সঙ্গেও বাংলার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তাদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও সাধারণ মানুষকে অবগত করাই এই প্রতিনিধিদলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিয়েছে ভারত। জাতীয় সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এই একত্রিত প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।