“শক্তি থাকলেই দুনিয়া প্রেমের ভাষা বোঝে”-ভারত-পাক উত্তেজনার মাঝে বললেন মোহন ভাগবত

ভারতের ক্ষমতা গোটা বিশ্ব দেখেছে এবং বিশ্ব কল্যাণই ভারতের ধর্ম – জয়পুরে এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)-এর প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি বলেছেন, শক্তি থাকলে, গোটা বিশ্ব ভালোবাসার কথাও শুনতে বাধ্য হয়।

জয়পুরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরএসএস প্রধান বলেন, “যদি আপনার কাছে ক্ষমতা থাকে, তা হলে গোটা দুনিয়া ভালোবাসার কথা শুনবে।” তিনি ত্যাগের বিষয়টিকে ভারতের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই প্রসঙ্গে ভগবান রামের প্রসঙ্গও টেনেছেন। ভাগবত মনে করেন, বিশ্বকে ধর্ম সম্পর্কে শেখানো ভারতের কর্তব্য। তাঁর কথায়, “বিশ্ব কল্যাণই হলো আমাদের ধর্ম। হিন্দুত্বের প্রধান কর্তব্য এটা।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভারত বিশ্বের একটি প্রাচীন দেশ এবং ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের জন্য গোটা বিশ্ব ভারতের দিকে তাকিয়ে আছে।

সম্প্রতি ভারতের একটি অভিযানের (মূল টেক্সটে ‘অপারেশন সিঁদুর’ হিসেবে উল্লিখিত) পর আরএসএস প্রধানের এই ধরনের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

এর আগে কয়েক দিন আগে দিল্লিতে ‘দ্য হিন্দু ম্যানিফেস্টো’ বইয়ের প্রকাশ অনুষ্ঠানেও মোহন ভাগবত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন যে, ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে ভারত কখনওই কোনো প্রতিবেশী দেশের ক্ষতি করে না।

তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেছিলেন যে, যদি কোনো দেশ বা গোষ্ঠী ভুল পথে চালিত হয় এবং অত্যাচার করে, তা হলে রাজার কর্তব্য হলো তাঁর প্রজাদের রক্ষা করা। এই প্রসঙ্গে তিনি রাবণ নিধনের প্রসঙ্গ টেনে সেটিকে ‘অহিংসা’ বলে অভিহিত করেন। ভাগবতের মতে, যখন কেউ অত্যাচারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করে এবং তার শোধরানোর কোনো অবকাশ আর থাকে না, তখন তাকে দমন করা বা শাস্তি দেওয়াও এক ধরনের অহিংসা, এটি হিংসা নয়। তিনি বলেছিলেন, “এটা রাজার কর্তব্য তাঁর জনগণকে রক্ষা করা এবং অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া।”

জয়পুরের অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলি তাঁর পূর্বের বক্তব্যেরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে, যেখানে তিনি ভারতের ক্ষমতা, বিশ্ব মঞ্চে তার ভূমিকা এবং ন্যায়বিচারের ধারণাকে তুলে ধরেছেন।