“অপারেশন সিঁদুরে নুর খান বিমানঘাঁটিতে ভারতের আক্রমণ”-অবশেষে স্বীকারোক্তি শরীফের

‘অপারেশন সিঁদুর’ এর পর ভারতের পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা এতদিনে বিশ্ববাসীর সামনে স্বীকার করে নিল পাকিস্তান। পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজেই স্বীকার করেছেন যে ভারতের প্রত্যাঘাতে তাদের অনেক বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একটি বিমানঘাঁটি হল নুর খান। এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের পূর্বের দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তারা বলছিল ভারত তাদের সামান্য আঁচড়ও কাটতে পারেনি এবং জনগণের চোখে ধুলো দিতে ‘বিজয়’ উদযাপন করছিল।
এই প্রসঙ্গে একটি ভিডিও বার্তায় শাহবাজ শরিফ বলেন, “৯ থেকে ১০ মে-র মধ্যে রাত আনুমানিক আড়াইটের দিকে, জেনারেল অসীম মুনির আমাকে ফোনে বলেছিলেন যে আজম সাহেব, ভারত সবেমাত্র তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে, যার মধ্যে একটি নুর খান বিমানঘাঁটিতে পড়েছে, কিছু অন্যান্য এলাকায়ও পড়েছে…।” তিনি আরও জানান যে, দেশের বিমান বাহিনী দেশকে রক্ষা করার জন্য নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে এবং চিনা যুদ্ধবিমানগুলিতে আধুনিক গ্যাজেট ও প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হয়েছে।
নুর খান কোনও সাধারণ বিমানঘাঁটি নয়। এটি পাকিস্তানের ভিভিআইপি এবং উচ্চ পর্যায়ের সামরিক বিমান চলাচলের প্রধান কেন্দ্র। ইসলামাবাদের নিকটবর্তী অবস্থান এবং বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহারের কারণে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিমান ঘাঁটিগুলির মধ্যে অন্যতম। এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে ভারতের হামলা পাকিস্তানের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।
হামলার পর প্রকাশিত হওয়া সমস্ত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায় যে ভারতীয় বিমান বাহিনী অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। মহাকাশ সংস্থা স্যাটেলজিকের স্যাটেলাইট চিত্র, যা আর্থ ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম স্কাইফাই ইন্ডিয়া টুডেকে সরবরাহ করেছে, তা পাকিস্তানের এই হাই-প্রোফাইল বিমান ঘাঁটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির নতুন বিবরণ প্রকাশ করেছে। ছবিগুলি নিশ্চিত করে যে ১০ মে নুর খান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছিল। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের স্থান থেকে প্রায় ৪৩৫ মিটার দূরে G450 (G-IV-X) স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে মিলে যাওয়া একটি সাদা বিমান উপস্থিত ছিল। উল্লেখযোগ্য যে, পাকিস্তান সরকার শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি এবং বিদেশমন্ত্রীদের জন্য সাদা গাল্ফস্ট্রিম বিমান ব্যবহার করে। স্যাটেলাইট ছবিতে আরও দেখা যাচ্ছে যে ভারতীয় বিমান বাহিনী রাওয়ালপিন্ডির বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে একটি কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ ইউনিট ধ্বংস হয়ে গেছে।
পাকিস্তানের এই স্বীকারোক্তি এবং স্যাটেলাইট প্রমাণগুলি ‘অপারেশন সিঁদুর’ এর সময় ভারতের সামরিক সক্ষমতা এবং অভিযানের নির্ভুলতা প্রমাণ করে দিয়েছে, একই সাথে পাকিস্তানের পূর্বের দাবিগুলিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে।