লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কি করেন বলি তারকারা? কীর্তি ফাঁস করলেন মহিলা কর্মী

বলিউড তারকাদের চাকচিক্যময় জীবনের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খবরাখবর জানতে মুখিয়ে থাকেন ভক্তরা। আর বলিউডের সেলিব্রিটিদের অসুস্থতা বা চিকিৎসার প্রসঙ্গ এলেই মুম্বইয়ের যে হাসপাতালটির নাম সবার আগে উঠে আসে, তা হলো লীলাবতী হাসপাতাল। তারকাদের কাছে এই হাসপাতালটি অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং জনপ্রিয়। এবার এই লীলাবতী হাসপাতালের অন্দরমহলের কিছু গোপন কথা ফাঁস করলেন এক সেলিব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট, যিনি সেখানে কাজ করেছেন।
খ্যাতিসম্পন্ন সেলিব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট খ্যাতি রূপাণী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে লীলাবতী হাসপাতালে তার কাজের সময়ের কিছু মজার ও চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন ঋষি কাপুর ছিলেন তাদের সবচেয়ে ‘অখুশি’ রোগী। অন্যদিকে, অভিনেতা সইফ আলি খান মিষ্টির জন্য প্রায়শই বায়না ধরতেন, আর মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন ছিলেন এক কথায় ‘অসাধারণ’।
খ্যাতি রূপাণী জানান, ঋষি কাপুর লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন বেশ অখুশি ছিলেন। এর অন্যতম কারণ ছিল হাসপাতালটি নিরামিষ এবং তাকে তার পছন্দের খাবারে কাটছাঁট করতে হতো। ঋষি কাপুর খাবারের বিধিনিষেধ একেবারেই পছন্দ করতেন না। তার স্ত্রী, অভিনেত্রী নীতু কাপুর প্রায়ই হাসপাতাল কর্মীদের অনুরোধ করতেন যেন তাকে মিষ্টি বা গুলাব জামুন না দেওয়া হয়। কিন্তু ঋষি কাপুর এই নিষেধাজ্ঞা মেনে নিতে পারতেন না। খ্যাতি বলেন, তিনি বহু চেষ্টা করেও ঋষি কাপুরকে খুশি রাখতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত তিনি বিরক্ত হয়েই হাসপাতাল ছেড়েছিলেন।
অভিনেতা সইফ আলি খানও একবার অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির জন্য লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই সময় তিনি বারবার পুষ্টিবিদ খ্যাতির কাছে জানতে চাইতেন কেন তাকে মিষ্টি দেওয়া হচ্ছে না। খ্যাতি তাকে বোঝাতেন যে সদ্য অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি হওয়ায় মিষ্টি দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সইফের মিষ্টি খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে মেটানোর জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাস্টার্ড, জেলি-সহ স্বাস্থ্যকর মিষ্টি তৈরি করে দেওয়া হতো বলে খ্যাতি জানান।
অন্যদিকে, অমিতাভ বচ্চনকে নিয়ে খ্যাতির অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি জানান, অমিতাভ বচ্চনের মা তেজি বচ্চন প্রায় ১১ মাস লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এত দীর্ঘ সময়েও যদি কখনও তার মায়ের খাবার পৌঁছাতে সামান্য দেরি হতো, অমিতাভ বচ্চন একবারও উত্তেজিত না হয়ে বা চিৎকার না করে অত্যন্ত শান্তভাবে বলতেন, “বেটা, একটু চেষ্টা কর যেন সময়মতো আসে।” অমিতাভ বচ্চনের এই শান্ত ও বিনয়ী আচরণে মুগ্ধ হয়ে খ্যাতি রূপাণী সিদ্ধান্ত নেন যে এরপর থেকে বচ্চন সাহেবের মায়ের খাবার সবসময়ে আগে যাবে এবং সে অনুযায়ী তিনি হাসপাতাল কর্মীদের নির্দেশও দিয়েছিলেন। খ্যাতি অমিতাভ বচ্চনকে ‘এক কথায় অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
সেলিব্রিটি পুষ্টিবিদের এই খোলাখুলি মন্তব্যের পর লীলাবতী হাসপাতালে তারকাদের চিকিৎসার সময়কার কিছু অজানা দিক প্রকাশ্যে এল, যা ভক্তদের মধ্যে বেশ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।