‘পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র…’, কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে বড় দাবি ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত। আজ জম্মু ও কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে এমনই তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন তিনি নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জম্মু ও কাশ্মীর সফরে রয়েছেন। পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষবিরতির এক সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই রাজনাথ সিংয়ের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী শ্রীনগরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক্সভি কোরের শীর্ষ স্থানীয় সেনা কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এই সফরে দেশের শীর্ষ সেনা আধিকারিকরা তাকে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক এবং যুদ্ধ প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করছেন। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর এটাই রাজনাথ সিংয়ের প্রথম জম্মু ও কাশ্মীর সফর।

রাজনাথ সিংয়ের আইএইএ সংক্রান্ত এই দাবি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিতে। সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের আবহে কিরানা হিলসে ভারতের মিসাইল গিয়ে পড়েছে কি না, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। দাবি করা হচ্ছে, সেখানেই পাকিস্তানের পরমাণু কেন্দ্র রয়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সেখানে রেডিয়েশন ছড়িয়ে পড়ারও দাবি করা হচ্ছে। এই আবহে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। গত ৭ মে ভোরে ভারত পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি পরিকাঠামোতে হামলা চালিয়েছিল। এর জেরে ৮, ৯ ও ১০ মে পাকিস্তান ভারতীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা করে। ১০ মে ভারত কড়া জবাব দিয়ে পাকিস্তানের আটটি বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য দূরপাল্লার অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এরপর ১০ মে বিকেলে উভয় পক্ষের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালকদের মধ্যে আলোচনা হয় এবং সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এই প্রেক্ষাপটে রাজনাথ সিংয়ের কাশ্মীর সফর এবং পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।