OMG! প্রাতঃকৃত্য সারতে গিয়ে হাতির শুঁড়ের সম্মুখে বৃদ্ধ, তারপর ….যা ঘটলো?

ঝাড়গ্রাম জেলায় হাতির হানায় প্রাণহানির ঘটনা যেন থামছেই না। আবারও পুকুরিয়া এলাকায় হাতির আক্রমণে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। বৃহস্পতিবার ভোরে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, যা এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং বন দফতরের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
মৃত বৃদ্ধের নাম পরিমল মাহাতো, তাঁর বয়স ৬১ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পরিমলবাবু বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ প্রাতঃকৃত্যের জন্য বাড়ির বাইরে উঠানে বের হয়েছিলেন। তখনই একটি হাতি তাকে সামনে থেকে আক্রমণ করে। অভিযোগ, হাতিটি শুঁড়ে পেঁচিয়ে পরিমলবাবুকে তুলে নিয়ে যায় এবং কিছু দূরে আছড়ে ফেলে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বন দফতর সূত্রে খবর, এদিন ভোররাতে চারটি হাতির একটি দল বাঁদর ভুলার দিক থেকে লোকালয়ে প্রবেশ করে এবং এই হামলা চালায়। যদিও বন দফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাদের দাবি, এলাকায় প্রায় সারাদিনই হাতির দল ঘোরাফেরা করছে। এর ফলে আতঙ্কে গ্রামবাসীরা কাজু বাগান বা শাল পাতা সংগ্রহের জন্য জঙ্গলে প্রবেশ করতে ভয় পাচ্ছেন। জীবিকা নির্বাহের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন যে, হাতির উপদ্রব সম্পর্কে বন দফতরকে বার বার জানানো সত্ত্বেও কোনও স্থায়ী বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে প্রতিনিয়ত হাতির হামলায় মানুষ মারা যাচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে, ঘরবাড়ি ভাঙছে, কিন্তু বন দফতরের নাকি হুঁশ নেই।
জঙ্গলমহলে হাতির লাগাতার হানায় মানুষের মৃত্যুতে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত আতঙ্কিত। বন দফতরের প্রতি তাদের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, বন দফতর যদি হাতি নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি সচেতন এবং সক্রিয় না হয়, তবে জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি ব্যাহত হবে। হাতির তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জঙ্গলমহলবাসী।
প্রসঙ্গত, হাতি বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝাড়গ্রাম হাতির বসবাসের জন্য খুব একটা উপযুক্ত নয়। তাদের বসবাসের জন্য প্রয়োজন বৃহৎ আকৃতির নিরবচ্ছিন্ন জঙ্গল। ঝাড়গ্রামে তেমন বড় আকারের জঙ্গল না থাকায় হাতি খাবারের সন্ধানে বা স্বাভাবিক বিচরণের জন্য জঙ্গল থেকে লোকালয়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন মানুষের জীবন ও সম্পত্তিহানি ঘটছে, তেমনই হাতিরাও জীবন সঙ্কটে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ ও হাতি উভয়ই চরম সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত বন দফতর ও প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেই মনে করছেন সকলে।