“২৩টি জেলায় ২৩টি শপিং মল”-সেই সাথে দিঘা নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

রাজ্যে শিল্পায়নকে নতুন গতি দিতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, রাজ্যজুড়ে ছোট-বড় শহরগুলিতে পরিকাঠামোর উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২৩টি জেলায় ২৩টি নতুন শপিং মল বা ‘বিগ মার্কেট’ স্থাপন এবং নিউটাউনে একটি আন্তর্জাতিক মানের কালচারাল পার্ক তৈরি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ২৩টি শপিং মল তৈরির জন্য রাজ্য সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে বিনামূল্যে এক একর করে জমি প্রদান করবে। ভবন তৈরির কাজটি করবে বেসরকারি সংস্থা। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, নির্মিত মলের দুটি ফ্লোর বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্যের স্বনির্ভর গোষ্ঠীদের (Self Help Group) জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে। এর ফলে স্থানীয় স্তরে ছোট উদ্যোগপতি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীরা উপকৃত হবেন এবং রাজ্যে আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি, কলকাতার নিউটাউনে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইনফর্মেশন টেকনোলজি এন্টারটেনমেন্ট কালচারাল পার্ক তৈরির কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। হিডকোর (HIDCO) সঙ্গে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে ২৫ একর জমির উপর এটি তৈরি করা হবে। এই আন্তর্জাতিক মানের পার্কের বাংলা নামকরণ করা হবে ‘বিশ্ব অঙ্গন’।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে শিল্পায়নের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “দ্রুত শিল্পায়ন আমাদের লক্ষ্য… বাংলায় শিল্প হোক, এই নিয়ে চাহিদা রয়েছে। অনেকেই জমি চাইছেন।” তাঁর সরকার সেই চাহিদা পূরণে বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান।
শিল্প এবং পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে দিঘাকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত মাসেই সেখানে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পর এবার কেনাকাটার চাহিদা মেটাতে দিঘায় একটি বড় বাজার তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় জমি খুঁজছে। এছাড়া দিঘায় একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার তৈরি করা হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী জানান।
এছাড়াও, শিল্প স্থাপনের জন্য পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুরে ১০টি বড় প্লট চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই ১০টি প্লটে মোট জমির পরিমাণ ২ হাজার ৫১৫ একর। আশা করা হচ্ছে, চিহ্নিত এই এলাকাগুলিতে ২৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ আসবে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
রাজ্য সরকারের এই নতুন উদ্যোগগুলি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।