সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের জেরে বিপাকে পাকিস্তান, ভারতের কাছে চুক্তি ফের চালুর আবেদন

পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিতে ভারত সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। ভারত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ জল বন্টন চুক্তি একসঙ্গে চলতে পারে না। এই সিদ্ধান্তের পর থেকে সিন্ধু নদী দিয়ে অনেক জল প্রবাহিত হলেও ভারতের দিক থেকে পাকিস্তানের জন্য জল প্রবাহ কার্যত বন্ধ রাখা হয়। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে থাকা জঙ্গি ঘাঁটিগুলিতে প্রত্যাঘাত করে, যার পাল্টা চেষ্টা চালায় পাকিস্তানও। এই ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছয়।
গত শনিবার ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অস্ত্রবিরতি কার্যকর হলেও, সিন্ধু জল চুক্তি এখনও ভারতের তরফে স্থগিতই রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এ প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, যেমন সন্ত্রাসের সঙ্গে কোনও আলোচনা হতে পারে না, তেমনই রক্তের সঙ্গে জল একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না। তাঁর এই মন্তব্যের পর সিন্ধু অববাহিকায় ভারতের দিক থেকে জল নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।
ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানের উপর তার গুরুতর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে খারিফ শস্যের বর্তমান মরশুমে সিন্ধু অববাহিকা দিয়ে পর্যাপ্ত জল না যাওয়ায় পাকিস্তানের কৃষকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। দেশের কৃষি ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মতো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের শেহবাজ শরিফের সরকারের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৃষি সংকটের মুখে এবার ভারতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পাকিস্তান সরকার। সিন্ধু জল চুক্তি যাতে পুনরায় স্থগিত অবস্থা থেকে কার্যকর করা হয়, সেই মর্মে পাক সরকার ভারতের কাছে আবেদন জানিয়েছে বলে সূত্রের খবর। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে প্রকাশ, পাকিস্তানের জল মন্ত্রী সৈয়দ আলি মুর্তাজা ভারতের জল শক্তি মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়ে সিন্ধু জল চুক্তি পুনরায় চালু করার আবেদন জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তান ভারতের সঙ্গে সমস্ত অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জল চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু নদীর মোট জলের ৩০ শতাংশ ভারত ব্যবহার করতে পারবে এবং বাকি ৭০ শতাংশ জল পাবে পাকিস্তান। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত সরকার কঠোর অবস্থান নেয় এবং চুক্তি স্থগিত করে সিন্ধু অববাহিকা দিয়ে পাকিস্তানের অংশে এক ফোঁটা জলও যাতে না গড়াতে পারে, তা নিশ্চিত করে। এছাড়াও পাকিস্তানকে আগে বন্যা সংক্রান্ত যে সতর্কতা জারি করা হতো, তাও ভারত বন্ধ করে দেয়। ভারতের এই কৌশলগত পরিবর্তন পাকিস্তানের উপর বড়সড় চাপ সৃষ্টি করেছে এবং তাদের আলোচনার টেবিলে আসার জন্য পরোক্ষভাবে বাধ্য করছে বলে মনে করা হচ্ছে।