“অনেকেই বলছেন, আমফানের মতো একটা সাইক্লোন হবে…”-ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছে, ঠিক তখনই এ বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) এখনও পর্যন্ত কোনও ঘূর্ণিঝড়ের স্পষ্ট পূর্বাভাস দেয়নি, তবে মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে একেবারে হালকাভাবে নেননি।
বুধবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে ঘূর্ণিঝড়ের প্রসঙ্গ উঠলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা অনেকেই বলছেন, আমফানের মতো একটা সাইক্লোন হবে। এটা হতে পারে, ওটা হতে পারে, নানা কথা বলছেন।” তিনি জানান, তিনি আগামী সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ সফরে যাবেন এবং সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই আবহাওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি আগামী সপ্তাহে উত্তরবঙ্গ সফরে যাব। উত্তরবঙ্গে মাঝে মাঝে আমাকে জেলাগুলিকে মিট করতে হয়, কথা বলতে হয়। এখন যে কোনও সময় ঝড়-জল টর্নেডো হয়। হেলিকপ্টার ব্যবহার করাও যাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, আমফানের মতো সাইক্লোনের সম্ভাবনার কথা যে বলা হচ্ছে, “সবটাই ঠিক নয়। আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো আমাদের হাতেও নেই। কাজেই সব জায়গাটাই নজর রাখতে হয়।” অর্থাৎ, তিনি সরাসরি ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত না করলেও, বর্তমান আবহাওয়ায় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা টর্নেডোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন।
বস্তুত, সাম্প্রতিক সময়ে ‘শক্তি’ নামক একটি সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়েছিল। তবে মৌসম ভবনের তরফে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি, বরং ‘শক্তি’ নামক ঘূর্ণিঝড়ের খবরকে ভুয়ো বা ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে। IMD স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আন্দামান সাগরে ‘শক্তি’ নামে কোনও ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে না।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আন্দামান সাগরের উপর একটি উচ্চ-স্তরের ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘূর্ণাবর্তটি আগামী ১৬ থেকে ২২ মে-র মধ্যে নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এটি পরবর্তীকালে আরও শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কিনা, তা নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর।
তবে এই সময়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট হলো, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু (সাউথ-ওয়েস্ট মনসুন) নির্ধারিত সময়ের আগেই আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের কিছু অংশে প্রবেশ করেছে। ১৩ মে-র মধ্যেই মৌসুমী বায়ু সেখানে পৌঁছে গেছে, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় নয় দিন আগে। মৌসুমী বায়ুর এই আগাম আগমন কৃষি পরিকল্পনা ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সুতরাং, সরকারিভাবে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস না থাকলেও, আন্দামান সাগরের ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমী বায়ুর আগমনের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়ার দিকে নিবিড় নজর রাখছে প্রশাসন, এবং মুখ্যমন্ত্রীও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন।