Weather: ঘনাচ্ছে ঘূর্ণাবর্ত, বাংলার ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হওয়ার সম্ভাবনা

দীর্ঘ দাবদাহের পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গবাসীর জন্য স্বস্তির খবর শোনাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ তীব্র গরম থেকে মুক্তি মিলতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে থেকে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে অস্বস্তিকর তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের বিশেষ বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পূর্ব বিহার এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপ-হিমালয় অঞ্চলের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এই ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি অক্ষরেখা দক্ষিণ ছত্তীসগঢ় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা ঝাড়খণ্ড, বিদর্ভ এবং তেলেঙ্গানার উপর দিয়ে গেছে। পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ক্রমাগত গরম হাওয়া বয়ে আসছে এবং এর সঙ্গে তীব্র সূর্যতাপ যুক্ত হওয়ায় আগামী ১৫ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।
তবে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে ১৬ মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ওই দিন থেকে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৫০–৬০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার জন্য ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কলকাতাতেও বৃষ্টির সাথে ঘণ্টায় ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির দাপট দক্ষিণবঙ্গের চেয়ে বেশি থাকবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আগামী দু’দিন দিনের তাপমাত্রার তেমন বড় কোনও পরিবর্তন না হলেও, ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে সপ্তাহ শেষে দক্ষিণবঙ্গের পারদ ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। সামগ্রিকভাবে, তীব্র গ্রীষ্মের পর এই বৃষ্টির পূর্বাভাস স্বস্তি এনে দিয়েছে রাজ্যের একাংশের মানুষের মনে।