OMG! স্ত্রীর সঙ্গে বন্ধুর সম্পর্ক, পরকীয়ার জেরে হলো খুনোখুনি কান্ড, গ্রেফতার স্বামী

বন্ধুর বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া এবং স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সহজ স্বাভাবিক কথাবার্তা কিছুই অস্বাভাবিক মনে হয়নি অভিজিৎ সরকারের কাছে। কিন্তু অজান্তেই তাঁর স্ত্রী জড়িয়ে পড়েছিলেন সেই বন্ধুর প্রেমের সম্পর্কে। সময়ের সাথে সাথে দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরে, শুরু হয় সন্দেহ। পরিণতি হয় ভয়াবহ। স্ত্রীর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তাঁর প্রেমিককে পাড়ার শিবমন্দিরে ডেকে আনেন অভিজিৎ। সেখানেই ঘটে সেই মর্মান্তিক ঘটনা – স্ত্রীর চোখের সামনেই প্রেমিক রাজ বর্মনকে ছুরি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে খুন করেন অভিজিৎ। রক্তাক্ত অবস্থায় রাজকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় পোলবা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং অভিযুক্ত অভিজিৎকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে নবদ্বীপের অভিজিৎ সরকারের সঙ্গে পোলবার মহানাদের বাসিন্দা সাগরিকা সরকারের বিয়ে হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে যে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক সুখের ছিল না। এরই মাঝে অভিজিতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাজ বর্মনের সঙ্গে সাগরিকার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই বিষয়টি জানার পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি চরমে পৌঁছায়।
ঘটনার দিন, কয়েকদিন আগে অভিজিৎ ও সাগরিকার ঝগড়ার পর সাগরিকা মহানাদে তাঁর বাপের বাড়িতে চলে আসেন। গত সোমবার রাতে সাগরিকার সঙ্গে দেখা করতে আসেন রাজ। পাড়ার শিবমন্দিরে তাদের দেখা করার পরিকল্পনা ছিল। সাগরিকার দাবি, তাঁর স্বামী অভিজিৎ তাঁকে দিয়ে ফোন করিয়ে রাজের অবস্থান জেনে নেয়। এরপরই অভিজিৎ সেখানে পৌঁছে শিবমন্দিরে থাকা রাজকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।
চোখের সামনে প্রেমিককে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়তে দেখে সাগরিকা। দ্রুত স্থানীয়রা আহত রাজকে চুঁচুড়ার ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাগরিকার মা কল্যাণী সরকার জানিয়েছেন, অনেক কষ্ট করে মেয়েকে মানুষ করে বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে সাগরিকার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। তাঁর দাবি, এই কারণেই মেয়ে রাজের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল এবং রাজের সঙ্গেই নতুন জীবন শুরু করতে চেয়েছিল।
ঘটনার পর সাগরিকা বলেন, “আমি রাজকে ভালোবাসতাম। ও আমার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিল। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে দিয়ে ফোন করিয়ে জেনে নেয় রাজ এসেছে কিনা। আমি রাজকে চলে যেতে বলেছিলাম। এর মধ্যেই অভিজিৎ এসে ওকে ছুরি দিয়ে কোপায়।”
পোলবা থানার পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অভিজিৎ সরকারকে গ্রেফতার করেছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরকীয়ার কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হলেও, এর পেছনে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।