ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপেই থামল ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ? জেনেনিন যুদ্ধবিরতির নেপথ্য কাহিনী

সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জোর শোরগোল শুরু হয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, আমেরিকার মধ্যস্থতার কারণেই দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে ভারত সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ থামাতে কোনও তৃতীয় শক্তির ভূমিকা ছিল না।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, প্রথমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং আমেরিকার সেনেটর মার্কো রুবিওর মধ্যে আলোচনা হয়েছিল গত ১ মে। সেই কথোপকথনে এস জয়শঙ্কর আমেরিকাকে জানান যে, ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে আগ্রহী। পাশাপাশি এও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে, এই বিষয়ে ভারতের কোনও রকম সহযোগিতার প্রয়োজন নেই। পহেলগাঁও হামলার পর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকা ভারতের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছিল। সূত্র মারফত খবর, সম্ভবত সে কারণেই ‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পর্কে ভারতের তরফে ট্রাম্প প্রশাসনকে অবগত করানো হয়, যাতে আগামী দিনে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে আমেরিকা ভারতের পাশে থাকে।
মুনীরের সঙ্গে কথা বলেই জয়শঙ্করকে ফোন রুবিও
গত ১০ মে ভারত পাকিস্তানের এয়ারবেসে প্রত্যাঘাত করে। ঠিক তার পরদিনই অর্থাৎ ১১ মে সেনেটর মার্কো রুবিও প্রথমে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীরের সঙ্গে কথা বলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেন।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদেশ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ফোন কলটি কোনওভাবেই মধ্যস্থতা করার জন্য ছিল না। ওই আধিকারিক জানান, রুবিও জয়শঙ্করকে জানিয়েছিলেন যে পাকিস্তান গোলাগুলি বন্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে। এরপর তিনি জানতে চান, ভারতও কি তাহলে পাল্টা হামলা থামিয়ে দেবে? মার্কো রুবিওকে এর জবাবে এস জয়শঙ্কর জানান যে, পাকিস্তান যদি হামলা না করে, তাহলে ভারতও কোনও অ্যাকশন নেবে না।
সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা কেন করেন ট্রাম্প?
এই সমস্ত ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আচমকাই ঘোষণা করে দেন যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতিতে তিনিই মধ্যস্থতা করেছেন। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানান, আমেরিকার মধ্যস্থতার কারণেই দুই দেশ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে এবং তিনিই দুই দেশের মধ্যে অশান্তি বন্ধ করতে সহযোগিতা করেছেন। অথচ, ভারত এবং পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সংঘর্ষবিরতি নিয়ে যে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, তাতে কোথাও আমেরিকা কিংবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি।
সংঘর্ষবিরতির পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করবে ভারত?
সংঘর্ষবিরতির পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত কী পদক্ষেপ করবে, সেদিকেই এখন নজর সকলের। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে পাকিস্তানের জড়িত থাকার নয়া প্রমাণ নিয়ে ভারত রাষ্ট্রসঙ্ঘে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে চলেছে। আগামী সপ্তাহে UNSCR 1267 চুক্তি সমিতির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেখানেই ভারত এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে এবং পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক স্তরে কোণঠাসা করার চেষ্টা করবে।
সব মিলিয়ে, ভারত-পাক সংঘর্ষবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি ঘিরে এখনও জল্পনা চলছে, তবে ভারত তার অবস্থানে অনড় যে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।