যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েই চুক্তিভঙ্গ পাকিস্তানের! ‘আঘাত করলে পাল্টা জবাব দেব’ বড় পদক্ষেপ ভারতের

প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের প্রস্তাবেই শনিবার দুপুর নাগাদ ভারত সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হয়েছিল। বিকেল ৫টা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল সেই সমঝোতা। কিন্তু মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই পাকিস্তান সেই সমঝোতা লঙ্ঘন করে। ড্রোন, মর্টার ও শেলিংয়ের মাধ্যমে হামলা চালায় তারা। ঘনঘন বিস্ফোরণের শব্দে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সীমান্ত। পাকিস্তানের এই ‘বিশ্বাসঘাতকতা’-র পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল ভারত।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানের হামলার পর ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে দুই দেশের মধ্যে যা হয়েছিল তা কেবল একটি সংঘর্ষ বিরতির ‘সমঝোতা’ (understanding), কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি (formal treaty) ছিল না। অর্থাৎ, এই বার্তা দিয়ে সরকার স্পষ্ট করে দিল যে পাকিস্তান যদি ফের আঘাত করে, তবে ভারতও তার যোগ্য জবাব দেবে এবং পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।

যুদ্ধবিরতির সমঝোতা অনুযায়ী শনিবার থেকেই দুই দেশের স্থল, জল ও আকাশ পথে সামরিক অভিযান বন্ধ থাকার কথা ছিল। ভারত নিজের প্রতিশ্রুতি রাখলেও, পাকিস্তান ‘স্বভাবসিদ্ধ’ভাবেই সেই সমঝোতার বরখেলাপ করেছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তান হামলা শুরু করে, ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠানো সহ মর্টার ও শেলিং শুরু করে। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিটি আঘাতকেই রুখে দিয়েছে এবং পাকিস্তানের পাঠানো ড্রোন ধ্বংস করেছে।

গতকালই সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হলেও, তা ছিল শর্তসাপেক্ষ। এই সংঘর্ষ বিরতির কারণে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। অর্থাৎ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি আপাতত স্থগিতই থাকবে। একইভাবে, কূটনৈতিক স্তরে যে যে সিদ্ধান্তগুলি আগে নেওয়া হয়েছিল, সেগুলিও অপরিবর্তিত থাকবে। ভারত যেমন সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখবে, তেমনই পাকিস্তানের নাগরিকদের আপাতত ভারতে ভিসাও দেওয়া হবে না। সীমান্ত বন্ধ থাকবে, স্থগিত থাকবে বাণিজ্যও। ভারতের বন্দর ও আকাশপথও ব্যবহার করতে পারবে না পাকিস্তান।

পাকিস্তানের এই চুক্তিভঙ্গ প্রমাণ করেছে যে তাদের সদিচ্ছা নেই। অন্যদিকে, ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা শান্তি চায় বটে, তবে আক্রান্ত হলে পাল্টা জবাব দিতেও প্রস্তুত। পূর্বের কঠোর সিদ্ধান্তগুলি অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে দিল্লি নিজেদের firme অবস্থান বজায় রেখেছে।