বিশেষ: মাটি খুঁড়ে ৮৬৫ বছরের প্রাচীন স্বর্ণমুদ্রা পেলেন বৃদ্ধ, রাতারাতি বদলে গেলো ভাগ্য

যেন গল্পের মতো শোনালেও, মাটি খুঁড়ে গুপ্তধন পেয়ে রাতারাতি ধনকুবেরে পরিণত হয়েছেন এক ব্রিটিশ নাগরিক। ঘটনাটি ঘটেছে উইল্টশায়ারের শিপেনহ্যাম এলাকায়। ৬৮ বছর বয়সী টোনি হাউস নামের ওই ব্যক্তি সম্প্রতি এই বিপুল ধনভাণ্ডারের সন্ধান পেয়ে নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি এখন প্রায় ৫৭০টি মূল্যবান টেলবি পেনির মালিক।

মধ্যযুগের রাজা দ্বিতীয় হেনরির সময়কালে তৈরি হওয়া এই ধরনের স্বর্ণমুদ্রা প্রথম পাওয়া গিয়েছিল ১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে, লিঙ্কনশায়ারের টেলবি অঞ্চলে। সেখান থেকেই এই মুদ্রাগুলির নাম হয় টেলবি পেনি। সেরকমই ৫৭০টি স্বর্ণমুদ্রা খুঁজে পেয়েছেন টোনি।

শিপেনহ্যামের বাসিন্দা টোনি পেশায় একজন মেটাল ডিটেক্টরিস্ট বা গুপ্তধনসন্ধানী। বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি এই কাজে যুক্ত। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে তিনি মাটির উপর মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে পরীক্ষা করার সময় একটি সিগন্যাল পান। প্রাথমিকভাবে খোঁড়াখুঁড়ির পর একটি মাত্র স্বর্ণমুদ্রা উঠে আসে, যা দেখে তিনি দমে যাননি। নতুন উদ্যমে তিনি আরও নিবিড়ভাবে সন্ধান চালিয়ে যান। এরপর কয়েক বর্গমিটার এলাকার মধ্যেই তিনি একে একে মোট ৫৭০টি স্বর্ণমুদ্রা খুঁজে বার করেন।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, টোনি হাউস যে স্বর্ণমুদ্রাগুলি পেয়েছেন, সেগুলির বয়স প্রায় ৮৬৫ বছর। এগুলি তৈরি হয়েছিল প্ল্যান্টাজেনেট যুগে ১১৫৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১৮০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কোনো এক সময়ে। যদিও ঐতিহাসিকদের মতে, মুদ্রাগুলির নির্মাণশৈলী খুব একটা উন্নত মানের ছিল না এবং তৈরির সময় কিছু ত্রুটি ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে এগুলির গুরুত্ব অপরিসীম, যা এদের ঐতিহাসিক মূল্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, টোনির খুঁজে পাওয়া এই বিপুল সংখ্যক টেলবি পেনির বাজার মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। টোনি আগে একটি ফাস্টফুডের দোকান চালাতেন। গত আট বছর ধরে তিনি নেশার টানেই গুপ্তধনের সন্ধানে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে আসছেন। সবসময় নতুন এবং চমকপ্রদ কিছু করাই তাঁর ভালো লাগে। আর এবার তো একেবারে রাতারাতি তাঁর জীবন পাল্টে গেছে।

সূত্র: ডেইলি মেইল