যাঁদের আলোচনার পর থামল ভারত-পাকিস্তান ‘যুদ্ধ’… জেনেনিন সেই DGMO দের পরিচয়?

দীর্ঘ উত্তেজনার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অবশেষে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে। শনিবার দুই দেশের ডিরেক্টর জেনারেল অফ মিলিটারি অপারেশনস (DGMO)-এর মধ্যে আলোচনার পরই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তাঁর মধ্যস্থতায় এই সংঘর্ষে বিরাম এসেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কে হন এই ডিজিএমও এবং সামরিক ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ডিজিএমও বা ডিরেক্টর জেনারেল মিলিটারি অপারেশনস হলেন সেনাবাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্বশীল পদের অধিকারী। ভারতের বর্তমান ডিজিএমও হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই। মূলত সমস্ত সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা, নির্দেশ এবং পরিচালনার মূল দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়। যুদ্ধ বা সংঘাতের সময় সামরিক অভিযান সম্পর্কিত প্রতিটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত ডিজিএমও-ই গ্রহণ করে থাকেন।

সমস্ত সামরিক অভিযানের দায়িত্ব ডিজিএমও-র উপর ন্যস্ত:

ডিজিএমও-এর অন্যতম প্রধান কাজ হলো যুদ্ধকালীন কৌশল প্রস্তুত করা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা এবং শান্তিরক্ষার জন্য চলমান মিশনগুলোকে সমন্বিত করা। এছাড়াও, সেনাবাহিনীর তিনটি শাখা (স্থল, বায়ু ও নৌসেনা) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন তিনি।

যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান সম্পর্কিত প্রতিটি তথ্য ডিজিএমও-এর কাছে পাঠানো হয়। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তিনি কৌশল তৈরি করেন এবং সেই অনুযায়ী অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। এই কাজের জন্য তাকে নিরন্তর গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হয় এবং প্রয়োজনে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য সরবরাহ করাও বাধ্যতামূলক।

যুদ্ধ শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন:

ডিজিএমও সীমান্ত সম্পর্কিত জটিল বিষয়, সামরিক অভিযান এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যাগুলি পরিচালনা করেন। সুতরাং, একটি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সংঘাত চলাকালীন এবং যুদ্ধবিরতি বা সংঘাত কমানোর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁদের ভূমিকা থাকে অপরিসীম। বর্তমান যুদ্ধবিরতি ইস্যুতেও দেখা গেল, প্রথম যোগাযোগ এবং প্রাথমিক আলোচনা দু’দেশের ডিজিএমওদের মধ্যেই স্থাপিত হয়েছে, যা তাঁদের পদের গুরুত্ব প্রমাণ করে। এই পদাধিকারীরাই দেশের সামরিক পদক্ষেপের নেপথ্যে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন।