বিশেষ: বিশ্ব বিখ্যাত ছিলেন মেবারের রাজা রানা প্রতাপ, জেনেনিন এখন কেমন আছে তার বংশধররা?

সময় বদলেছে, রাজ্যপাট ও রাজকীয় জৌলুস এখন আর আগের মতো নেই। তবুও ভারতের প্রাচীন রাজপরিবারগুলি নিজস্ব ঐতিহ্য, ঘরানা এবং আভিজাত্যকে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখনো ধরে রেখেছে। সাধারণ জনমানসে এখনো সেই রাজপরিবারের সদস্যদের জীবনযাত্রা নিয়ে প্রবল কৌতূহল বিদ্যমান। এমনই এক ঐতিহ্যবাহী এবং সুপরিচিত বংশ হলো মেবার রাজপরিবার, যারা রাজস্থানের উদয়পুরে নিজেদের প্রাচীন ধারা বহন করে চলেছে।
মেবারের কথা বললেই বীর যোদ্ধা এবং দেশপ্রেমী মহারানা প্রতাপের নাম সবার আগে মনে আসে। তিনি ছিলেন মেবারের গৌরবময় রাজা, যিনি মুঘলদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। তবে সে তো ইতিহাসের এক স্বর্ণালী অধ্যায়। বর্তমানে তাঁর বংশধরদের সেই প্রতাপশালী রাজ্যপাট বা রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই। বরং আধুনিক সভ্যতা ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিলেমিশে সাধারণ জীবনের মধ্যেই তাঁরা নিজেদের ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
মেবার বংশের বর্তমান প্রধান হলেন অরবিন্দ সিংহ মেবার। তিনি এখন আর রাজকীয় শাসকের ভূমিকায় নেই, বরং ব্যবসার জগতে তিনি এক পরিচিত নাম। তিনি বর্তমানে ‘এইচআরএইচ হোটেলস’ (HRH Hotels)-এর মতো একটি বড় হোটেল গোষ্ঠীর শীর্ষ পদে রয়েছেন এবং পর্যটন শিল্পের মাধ্যমে পারিবারিক ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
রাজা অরবিন্দ সিংহ এবং তাঁর স্ত্রী মহারানি বিজয়ারাজ বসবাস করেন উদয়পুর প্যালেসে, যা এখন শুধু তাঁদের বাসস্থানই নয়, এটি পর্যটকদের কাছে এক বিশাল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই প্রাসাদটি তার স্থাপত্য, ইতিহাস এবং সৌন্দর্যের জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। রাজা-রানি স্বয়ং এই প্রাসাদেই বসবাস করলেও, এর একটি বড় অংশ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। এটি রাজপরিবারের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, যেখানে তাঁরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাদের শত শত বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস ভাগ করে নিচ্ছেন এবং একই সঙ্গে এটি পর্যটন শিল্পেও অবদান রাখছে।
শুধু হোটেল ব্যবসা বা প্রাসাদের একাংশ খুলে দেওয়াই নয়, মেবারের বর্তমান রাজা অরবিন্দ সিংহ একটি আকর্ষণীয় সংগ্রহশালাও তৈরি করেছেন, যা পর্যটকদের কাছে খুব জনপ্রিয়। এই সংগ্রহশালায় উদয়পুর শহরের প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী গাড়িগুলি সুন্দরভাবে সংরক্ষণ ও সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যা ইতিহাস এবং অটোমোবাইল প্রেমীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়।
এভাবেই মেবার রাজপরিবার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব এবং ঐতিহ্যকে সগৌরবে বজায় রেখেছে। রাজ্যপাট বা সরাসরি রাজনৈতিক ক্ষমতা না থাকলেও, ব্যবসা ও পর্যটনের মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের প্রাসাদের দরজা জনসাধারণের জন্য খুলে দিয়েছেন এবং ঐতিহ্যবাহী জিনিস প্রদর্শন করছেন, যা তাদের প্রতি জনমানসের কৌতূহল এবং শ্রদ্ধা ধরে রাখতে সাহায্য করেছে।