ভারত-পাক উত্তেজনা চরমে, যুদ্ধের আবহেই জলে ডুবে মরবে পাকিস্তান! লকগেট খুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার

বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সংঘাত ও পাল্টা সংঘাতে দুই দেশ কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্মুখীন। পাকিস্তানকে উচিত শিক্ষা দিতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন সিঁদুর’। যখন মুহুর্মুহু গোলাবর্ষণ ও বোমার আঘাতে কেঁপে উঠছে পাকিস্তান, ঠিক তখনই পাকিস্তানকে জলের তলায় ডুবিয়ে মারতে আরও দুটি বাঁধের লকগেট খুলে দিল কেন্দ্রীয় সরকার।
সূত্রের খবর, পাকিস্তানকে জলবন্দি করতে বৃহস্পতিবার ফের রামবনের বাগলিহার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সালাল বাঁধের তিনটি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক তিক্ত হয়ে উঠেছিল, যা বর্তমানে চরম উত্তেজনার রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে বুধবার থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
খবর অনুযায়ী, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে বাঁধগুলির উপর চাপ বাড়ছে। সেই কারণে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চন্দ্রভাগা বাঁধের লকগেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রামবনের সালাল বাঁধের দুটি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রায় দু সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর লকগেট খোলায় হু হু করে জল বের হচ্ছে, যার ফলে যে কোনও মুহূর্তে পাকিস্তানের সিয়ালকোট ভেসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
অপারেশন সিঁদুর: পাকিস্তান লস্করের জঙ্গি কারখানা ধ্বংস ভারতের, দেখুন সেই মুহুর্তের ছবি
যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্য: ‘এখনও কিছুই দেখেনি পাকিস্তান’, অপারেশন সিঁদুরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুখ্যমন্ত্রী
অন্যদিকে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং আজ (৯ই মে) চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ এবং ভারতীয় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানদের সাথে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছেন। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ রণনীতি নির্ধারণের জন্য এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ হিসেবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ৭ই মে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর অধীনে জইশ-ই-মহম্মদের শক্ত ঘাঁটি বাহাওয়ালপুরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
বৃহস্পতিবার জম্মু, রাজস্থান ও পাঞ্জাব সহ ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চল লক্ষ্য করে লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তবে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী সমস্ত আগত হুমকি সফলভাবে প্রতিহত করেছে, যার ফলে বড়সড় ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়ানো গেছে। পহেলগাঁওয়ের সন্ত্রাসী হামলার বদলা নিতে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত জঙ্গি ঘাঁটিতে ভারত নিখুঁত হামলা চালানোর একদিন পরেই এই উস্কানিমূলক হামলা চালাল পাকিস্তান। উত্তেজনা বাড়লে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং ড্রোন মোতায়েন করে পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করে। ভারতের প্রতিক্রিয়া ছিল তাৎক্ষণিক এবং কার্যকর। দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কমপক্ষে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিমানগুলি একটি পাকিস্তানি এফ-১৬ এবং সম্ভবত দুটি জেএফ-১৭ বিমানকে ভূপাতিত করেছে।
এছাড়াও, ভারত বৃহস্পতিবার রাতে জম্মু, পাঠানকোট, উধমপুর এবং আরও কয়েকটি স্থানে পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে। আখমুর, সাম্বা, বারামুল্লা এবং কুপওয়ারা সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় সাইরেন এবং একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে যখন ভারতীয় সামরিক বাহিনী পাকিস্তান সীমান্তে রাতভর বিমান টহল দিয়েছে।