SnapChat: ১০০ কোটির পথে স্ন্যাপচ্যাট, ক্রমশ বেড়েই চলেছে ব্যবহারকারীর সংখ্যা

বিশ্বজুড়ে তরুণ-তরুণীদের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহারকারীর সংখ্যায় এক বড় মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলেছে। স্ন্যাপ ইনকরপোরেটেডের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) তাদের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯০০ মিলিয়ন বা ৯০ কোটিতে। এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিষ্ঠানটি খুব দ্রুতই ১০০ কোটির (এক বিলিয়ন) ব্যবহারকারীর ক্লাবে প্রবেশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাসিক ব্যবহারকারীর পাশাপাশি বেড়েছে দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যাও। বর্তমানে স্ন্যাপচ্যাটের দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ কোটি, যা গত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ কোটি বেশি। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয় এ অ্যাপে ছবি ও ভিডিও শেয়ারের পাশাপাশি রয়েছে এআর ফিল্টার, স্টোরিজ, স্পটলাইট এবং মেসেজিং–এর মতো আকর্ষণীয় ও উদ্ভাবনী ফিচার। ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী এসব ফিচারে নিয়মিত পরিবর্তন ও নতুনত্ব আনায় অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের কাছে ক্রমেই আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।

কেবল ব্যবহারকারী নয়, আয় ও বিজ্ঞাপন দিকেও বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে স্ন্যাপ বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞাপন থেকে আসা আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং বিজ্ঞাপনদাতার সংখ্যা বেড়েছে ৬০ শতাংশ। ভিডিও কনটেন্ট ঘিরে ব্যবহারকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ফলে বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে গেছে। যেমন, উত্তর আমেরিকায় স্ন্যাপ স্টারদের পোস্ট প্রকাশের হার বেড়েছে ১২৫ শতাংশ।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে স্ন্যাপ বর্তমানে একটি পরবর্তী প্রজন্মের এআর (Augmented Reality) অপারেটিং সিস্টেম তৈরিতে কাজ করছে। একইসঙ্গে চলছে নতুন ধরণের বিজ্ঞাপন পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। এছাড়া, স্ন্যাপচ্যাট ছাড়াও স্ন্যাপের অন্যান্য সেবার মধ্যে রয়েছে স্পেক্টাকলস, স্ন্যাপ এবং বিটমজি—যেগুলোও প্রযুক্তি বাজারে ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।

স্ন্যাপ ইনকরপোরেটেডের প্রধান নির্বাহী ইভান স্পিগেল এই ফলাফল প্রসঙ্গে বলেন, “২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিক আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ব্যবহারকারী, কনটেন্ট এবং বিজ্ঞাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১০০ কোটি ব্যবহারকারী অর্জনের মাধ্যমে স্ন্যাপ নতুন এক যুগে প্রবেশ করবে।